যুদ্ধাপরাধী জামায়াত, বিএনপি আর নীতিহীন ড. কামাল সাহেবদের প্রতীক একই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) শিল্পকলা একাডেমির মহড়া কক্ষে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ আয়োজিত ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, জঙ্গিবাদ এবং উন্নয়নবিরোধী চক্রান্তের মূলোৎপাটন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে যাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেছে, যাদের এখন কোনও প্রতীক নাই, সেই জামায়াতের ২৫ জনকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে নির্বাচনি বৈতরণী পার করার সুযোগ করে দিয়েছে বিএনপি। আর বিএনপিতে জামায়াতের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন নীতিহীন ড. কামাল হোসেন সাহেব, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম রবসহ অন্যরা। তারা প্রথম থেকেই বলে আসছিলেন, জামায়াতের সঙ্গে কোনও ঐক্য হবে না। আর এখন তারাই ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনে যাচ্ছেন এবং সেখানে জামায়াতকেও ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, এখন জামায়াত, বিএনপি আর ঐক্যফ্রন্টের ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম রব’রা একই প্রতীকে নির্বাচন করছেন।’
জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করেছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘অং সাং সুচি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় কানাডা তার নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া সম্মাননা কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ, প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া সম্মাননা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আজকে যে সব মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে একই প্রতীকে নির্বাচন করছে, দেশের সমগ্র মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি করা উচিত, সেসব মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব খেড়ে নেওয়ার। কারণ, তারা মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করেছে।’
এসময় শিক্ষকদের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গিগোষ্ঠী যারা রাজনীতির নামে মানুষ পোড়ায়, রাজনীতির নামে জনগণের সম্পত্তি পোড়ায়, তাদেরকে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে বর্জন করি এবং বাংলাদেশে তাদের রাজনীতির কবর রচনা করি।’
আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. শাহজাহান আলম সাজুর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন,—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিৎ রায় নন্দী, অভিনেতা ও শিক্ষাবিদ ড. ইনামুল হকসহ বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।