‘পার্বত্য শান্তি চুক্তি সংবিধান পরিপন্থী’





৪৪৪পার্বত্য ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি খাদিমুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি সংবিধান পরিপন্থী। তবে এটি আপিল বিভাগে পেন্ডিং আছে। পেন্ডিং থাকা অবস্থায় কাজ চলছে। কিন্তু সাংবিধানিকভাবে এই চুক্তির অস্তিত্ব নেই।
শনিবার (১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘পার্বত্য নাগরিক পরিষদের ১১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী এবং পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২১ বছরে জাতির প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি সই হয়— এ তথ্য জানিয়ে খাদিমুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘চুক্তি হওয়ার পরবর্তীতে দেখা গেলো বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। একজনের পৈত্রিক জমি আর কাউকে দেওয়া যাবে না, যাদের জমি তারই থাকবে। এ ধরনের অনেক বাস্তব সমস্যা দেখা দিলো। এর বিরুদ্ধে দুটি রিট পিটিশন হলো। এ মামলায় দেশের নামকরা সব আইনজীবী যুক্তি-তর্ক দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো এটি আমাদের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে হাইকোট এমন রায় দিলেন যাতে এ চুক্তির অস্তিত্ব এখন আর নেই।’ পার্বত্য চট্টগ্রামে মানুষের যে ভূমির অধিকার ও তাদের বসবাসের অধিকারে ডিস্টার্ব করার অধিকার কারও নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খাদিমুল ইসলাম বলেন, ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তি সংবিধান পরিপন্থী। তবে এটি আপিল বিভাগে পেন্ডিং আছে। পেন্ডিং থাকা অবস্থায় কাজ চলছে। কিন্তু সাংবিধানিকভাবে চুক্তির অস্তিত্ব নেই। সংবিধান পরিপন্থী যেটা, সেটা তো আমরা মানবো না। আপিল বিভাগে যেহেতু পেন্ডিং আছে, সেহেতু এটা তারাই বিচার করবেন। কিন্তু যে চুক্তিটা সংবিধান পরিপন্থী তা বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকের ওপর বহাল না। আমরা এটা মানতে রাজি না।’
পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ, পার্বত্য নিউজের সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. শেখ আহাম্মদ রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবদুল হামিদ রানা প্রমুখ।