গাজীপুরের টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন মাওলানা সা’দ কান্ধলভী বিরোধীরা। রবিবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে সা’দবিরোধী অংশের তাবলিগের শুরা ও হেফাজত নেতারা পল্টনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানেই দুপুর থেকেই জড়ো হতে থাকেন সা’দবিরোধীরা। তাদের অবস্থান ও বিক্ষোভে সেই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা বায়তুল মোকাররমে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি তোলা হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের নেতা ও জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রসার শিক্ষক মাওলানা মামুনুল হক। মিছিলে শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা হামলার ঘটনায় ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে দায়ী করেন।
জানা গেছে, ভারতের মাওলানা সা’দ কান্ধলভী অনুসারীরা ২০১৯ সালের ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেন। অন্যদিকে সা’দবিরোধীদের একাংশ হেফাজতে ইসলামপন্থী কওমি আলেমদের নিয়ে এক সমাবেশে জানুয়ারির ১৮, ১৯ ও ২০ ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেন। একই সঙ্গে দুই পক্ষই পৃথক তারিখে জেলাভিত্তিক জোড় ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেন।
শনিবার টঙ্গীতে তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত ও দুই শতাধিক আহত হয়। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তাবলিগ জামাতের পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকা দুই গ্রুপের মুরুব্বিদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া টঙ্গীতে ইজতেমা ময়দানে দুই পক্ষের কেউ অবস্থান করতে পারবে না এবং নির্বাচনের পরে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে গত ১৭ নভেম্বর দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই বৈঠকে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনে তাবলিগ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষ এড়াতে তাদের কার্যক্রমও স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। নির্বাচন শেষ হলে দুই পক্ষকে নিয়ে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও পক্ষই সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত না মেনে শনিবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।