বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিটার ফারেন হোল্টজ বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘আমরা একটি অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশা করছি। স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল এবারের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এত দল কখনও নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আমরা অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশা করছি।’
এ সময় জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জার্মানি বাংলাদেশে অবাধ গণতন্ত্রের চর্চা দেখতে চায়। সেজন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জরুরি। আগামী নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে বলে আশা করছি। কোনও রাজনৈতিক দলই নির্বাচনের বাইরে থাকবে না।’
তাবলিগ জামায়াতের বিষয়ে পিটার ফারেন বলেন, ‘মুসলমানদের নিজেদের বিষয়ে আরও সহিষ্ণু হওয়া উচিত। শান্তির ধর্মের গায়ে কোনও আঁচড় লাগানো ঠিক নয়, যা হচ্ছে তা খুবই নিন্দনীয়। শান্তিপ্রিয় তাবলিগের এ দ্বন্দ্বে আমরা বিস্মিত।’
পিটার ফারেন শনিবার টঙ্গীতে তাবলিগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘটিত ভয়াবহ সংঘর্ষকে একটি দুঃখজনক অধ্যায় উল্লেখ করেন। এতে আইএসের (ইসলামিক স্টেট) কোনও সংযুক্তি আছে কিনা জানতে চাইলে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনও আইএস নেই। তবে জামায়াতে ইসলামী আছে। প্রকৃত ইসলামী দলগুলোর মধ্যে এরা ঘাঁপটি মেরে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। টঙ্গীতেও এমন কোনও ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলে সঠিক বিষয়টি নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসবে।’
জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেন মানবকল্যাণে মাওলানা মাসঊদের শান্তি বিষয়ক ফতোয়ার প্রশংসা করেন। তিনি ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে জার্মানিতে একটি সেমিনারে আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের ইসলামিক স্কলাররা জার্মানিতে আসেন। আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই ফতোয়াও ভূমিকা রাখবে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেন হোল্টজ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমি এ দেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ। এ দেশের মানুষের চিন্তা ও দর্শনের সঙ্গেও আমাদের যথেষ্ট সামাঞ্জস্য আছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে। আমরাও আশ্রয় দিয়েছি।’