বাংলাদেশে নির্মিত দুই যুদ্ধজাহাজের সাংগঠনিক কাঠামো গঠন

গত বছর যুদ্ধজাহাজ দুটির কমিশনিং করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশ নির্মিত নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ (বানৌজা) ‘দুর্গম’ ও ‘নিশান’ এর সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করা হয়েছে। এজন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২২৪টি পদ (স্থায়ীভাবে সামরিক ও অস্থায়ীভাবে বেসামরিক পদ) সৃষ্টি ও ১০টি যানবাহন প্রদান করতে অনুমতি দিয়েছে। এছাড়াও পদগুলো টিওঅ্যান্ডইভুক্তকরণে সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা শাখা।

প্রসঙ্গত, জাহাজ দুটি নির্মাণ শেষে খুলনার নৌ ঘাঁটি বানৌজা তিতুমীরের নেভাল বার্থে গত বছরের ৮ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এগুলোর কমিশনিং করেছিলেন।  

প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির জন্য পাঠানো নথিতে জানা যায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী সদর দফতরের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে- খুলনা শিপইয়ার্ডে চীনা শিপবিল্ডিং অ্যান্ড অপসোর ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির (সিএসওসি) কারিগরি সহযোগিতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য দুটি লার্জ প্যাট্রোল ক্র্যাফট (এলপিসি) নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ শেষে গত ৮ নভেম্বর এই এলপিসি দুটিকে কমিশনিং করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। কমিশনিংয়ের পর এলপিসি দুটি নৌবহরে যুক্ত হয়ে অপারেশনাল কাজে নিয়োজিত রয়েছে। বানৌজা দুর্গম ও বানৌজা নিশান অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র, আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন কম্পিউটারাইজড সেনসর্স, টর্পেডো ও যন্ত্রপাতি দিয়ে সজ্জিত। ফলে জাহাজ দুটির অপারেশনাল কাজ পরিচালনা করা ও উন্নত প্রযুক্তির সমরাস্ত্র এবং সরঞ্জামাদির সঠিক ব্যবহার, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জাহাজগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করা যুক্তিযুক্ত ও জরুরি।

কাঠামোতে জনবল হিসেবে দুজন কমান্ডার, আট জন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার, আট জন লেফটেন্যান্ট, আট জন মাস্টার চিফ পেটি অফিসার (এমসিপিও), ১০ জন সিনিয়র চিফ পেটি অফিসার (এসসিপিও), ১৪ জন চিফ পেটি অফিসার (সিপিও), ৩২ জন পেটি অফিসার (পিও), ৬০ জন লিডিং, ৭২ জন অ্যাবল (এবি) এবং ১০ জন এমটিডি’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আখতার হোসেন ভূইয়ার পাঠানো এই সারসংক্ষেপে আরও বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের সম্মতি অনুযায়ী বানৌজা দুর্গম ও নিশান-এর সাংগঠনিক কাঠামো গঠনের জন্য ২২৪টি পদ টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করা যেতে পারে। এ সারসংক্ষেপটি প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উপস্থাপনের প্রস্তাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীরও (প্রধানমন্ত্রী) সম্মতি রয়েছে।

জাহাজ দুটির প্রস্তাবিত জনবল নৌবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত হলে যুদ্ধকালীন ও শান্তিকালীন সময়ের করণীয় দায়িত্বগুলো নৌবাহিনী সুষ্ঠুভাবে তদারকি ও পরিচালনা করতে সক্ষম হবে বলেও জানানো হয়েছে নথিতে।