রবিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০১৪ সালে যাত্রাবাড়ীর দনিয়ায় খুন হন পুলিশ সোর্স আসলাম শিকদার। অন্য আসামিদের স্বীকারোক্তিতে আবু তাহেরের নাম আসা সত্ত্বেও তার ঠিকানা না পাওয়ায় ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল।
আবু তাহেরের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার জলাপাড় এলাকায়। তার বাবার নাম আ. মালেক ওরফে মালু ব্যাপারি।
পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর আসলাম শিকদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু তাহেরকে যাত্রবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতদিন সে পলাতক ছিল। কিছুদিন আগে ডেমরার কোদাল ধোয়া এলাকায় থাকা শুরু করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।’
২০১৪ সালের ৮ নভেম্বর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া নিজ বাসায় খুন হন পুলিশ সোর্স আসলাম শিকদার। তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তার স্ত্রী নিলুফা বেগম যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই জানিয়েছে, গেন্ডারিয়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রহিমা ও তার স্বামী হযরত আলী ওরফে কিলার হযরতের সঙ্গে আসলাম শিকাদের বিরোধ ছিল। আসলামকে হত্যার ২৩ মাস আগে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রহিমাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এই গ্রেফতারের পেছনে আসলাম শিকদারের হাত রয়েছে বলে রহিমা আসলামকে সন্দেহ করে। এরপর রহিমা জামিনে মুক্তি পেয়ে তার স্বামীর হযরত আলীর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে আসলামকে হত্যা করে বলে বাদী তার মামলায় অভিযোগ করেন। আসলামের স্ত্রীর দায়ের করা মামলাটি যাত্রাবাড়ী থেকে ডিবি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। ডিবি পুলিশ তিন বছর ধরে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আসামিরা হলো জহির, মো. গিয়াস উদ্দীন ওরফে গেসু, মো. সুমন ওরফে ছয় ইঞ্চি সুমন, মো. আরমান ও হযরত আলী। তারা প্রত্যেকেই দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সে অনুযায়ী জানা যায়, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রহিমা বেগমের নির্দেশে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে আসামি আবু তাহের। তবে ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত প্রধান আসামি আবু তাহের গ্রেফতার না হওয়ায় এবং তার পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয় ডিবি পুলিশ।
তবে আদালত মামলাটি পর্যালোচনা করে অধিকতর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এবং একজন সুদক্ষ পুলিশ অফিসারের মাধ্যমে অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য আদালত স্বঃপ্রণোদিতভাবে পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশে পিবিআই, ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ মামলা তদন্তভার নেন। তদন্ত শুরু করে পিবিআই চাঞ্চল্যকর আসলাম শিকদার হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী প্রধান আসামি আবু তাহেরের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি টিম শনিবার রাতে যাত্রাবাড়ী থেকে আবু তাহেরকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার আবু তাহেরকে করা জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, আবু তাহের এই হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী। সে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, শ্যামপুর ও কদমতলী এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রহিমা বেগমের নির্দেশে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। হত্যাকাণ্ডের জন্য সে রহিমার কাছ থেকে ছয় লাখ নেয়। এ টাকা থেকে নিজের ভাগ রেখে বাকিটা সহযোগী আসামিদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়ে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যায়। একপর্যায়ে সে কুমিল্লা ছেড়ে নারায়ণগঞ্জে আত্মগোপন করে। সে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে।
পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, আবু তাহেরের বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।