একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরীতে কোনও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনেই আমরা কিছু কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করে থাকি। সে অনুযায়ী আমরা সেসব কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে থাকি। সেই বিবেচনা থেকে সমগ্র ঢাকা মহানগরীতে সব বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ঢাকা মহানগরীতে কোনও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই।’
শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডিএমপি সদর দফতরে আয়োজিত তাৎক্ষণিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরো রাজধানী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা রয়েছে। কেউ যদি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, পেশিশক্তি ব্যবহার করতে চায় এবং কোনও বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়, তবে তাকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘ভোটার, প্রার্থী বা এজেন্টদের হুমকি দিয়ে নৈরাজ্যের চেষ্টা করা হলে কিংবা ভীতি ছড়িয়ে কেন্দ্র দখলের সামান্য অপচেষ্টা করা হলে কঠোরভাবে দমন করা হবে।’ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পেশীশক্তি প্রয়োগ করে জ্বালাও-পোড়াওয়ের চেষ্টা হলে বরদাসত করা হবে না বলেও জানান তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাজনৈতিক সব ব্যক্তিসহ প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তায় সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ডিএমপি। বিভিন্ন তথ্য ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে যেসব নাগরিকের নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জন্য দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।’
নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে প্রতিটি এলাকায় মোবাইল পেট্রোল টিম কাজ করছে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন— তার পরিপূর্ণ ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে।’
যে কোনও ধরনের গোলযোগ এড়াতে শন্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমাদের সব কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রার্থী ও তাদের এজেন্টরা নির্বাচনি কোড অব কনডাক্ট মেনে চলবেন। তাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’
তিনি বলেন, ‘এটা শুধু সরকার বদলের নির্বাচন নয়, আমরা যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি তার নির্বাচন। তাই নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নয়, প্রত্যেকটি নাগরিকের দায়িত্ব। নির্বচন যেন আতঙ্কের না হয়ে উৎসবের হয়— তার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।’
একটি স্বার্থান্বেষী মহল অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘তারা গুজব ছড়িয়ে নির্বাচনি বিভিন্ন কার্যক্রমকে নিরুৎসাহিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। অনলাইনে বিভিন্ন নেতাকে হত্যা হুমকির তথ্যগুলো আমরা সংগ্রহ করে যাচাই করছি এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। উশৃঙ্খল বা গুজব সৃষ্টি করে কোনও ধরনের অপতৎপরতা সার্থক হতে দেওয়া হবে না ‘
ড. কামালকে হত্যার হুমকির সত্যতা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সমান গুরুত্বের। তাই শুধু ড. কামাল নয়, তথ্য-অনুসন্ধানের ভিত্তিতে যে সব রাজনীতিবিদ বা নাগরিকের জন্য নিরাপত্তার হুমকি রয়েছে বলে মনে হয়েছে, তাদের সবার জন্য দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’