রবিবার (৬ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে নাহিদ নওরিন জাহানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এ এফ এম সাইফুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার ফৌজিয়া আখতার পপি।
ঘটনার বিবরণে দেখা যায়, ২০১৪ সালে গাজীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মৌজাভিত্তিক বিভিন্ন শ্রেণির মূল্য তালিকা থেকে ছোট গোবিন্দপুর মৌজায় দলিল গ্রহীতা ব্লাক স্টোন প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাহিদ নওরিন জাহান, তৎকালীন গাজীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ২য় যুগ্ম রেজিস্টার জসিম উদ্দিন ও দলিল লেখক আবদুল হাই পরস্পর যোগসাজশে দলিলে উল্লেখ করা ভূমির শ্রেণি সরকারি রেকর্ডপত্র ও খতিয়ানে টেক লিপিবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও প্রতারণামূলকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ‘টেক’ (উঁচু ভূমি) শ্রেণির ভূমিকে ‘বোর’ (নিম্নাঞ্চল জলাশয়) শ্রেণি উল্লেখ করে মাত্র তিন কোটি টাকায় জমি রেজিস্ট্রি করেন। এমনকি অভিযুক্তরা সরকারি খাতে ১ কোটি ২৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩১৫ টাকা রাজস্ব পরিশোধ না করে তা আত্মসাৎ করেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ওপর অনুসন্ধান চালিয়ে তাদের বিরুদ্ধে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. একরামুর রেজা গত বছরের ২৮ জানুয়ারি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত চলছে। পরে মামলাটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন নাহিদ নওরিন জাহান। ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ২৭ আগস্ট আদালত নওরিনের মামলা বাতিলের বিষয়ে রুল জারি করেন এবং মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন।
এরপর ওই রুলের ওপর রবিবার (৬ জানুয়ারি) হাইকোর্টে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত নওরিন জাহানের আবেদন খারিজ করে দেন এবং বিচারিক আদালতে চলমান মামলাটির কার্যক্রমের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেন। এর ফলে তার বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে মামলাটি চলতে আর বাধা থাকলো না বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।