বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তদন্তকারী সংস্থাটির সিরিয়াস অ্যান্ড হোমিসাইডাল স্কোয়াডের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) সৈয়দা জান্নাত আরা।
বুধবার (৯ জানুযারি) রাতে রাজধানীর রমনা থানার বেইলি রোডের নবাবী ভোজ রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে মোবিনসহ এই প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো— খন্দকার ফারুক ওরফে ওমর মবিন (৫২), তার সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে নূর ইসলাম সরকার (৩৮) ও মো. সাইফুল ইসলাম (৩০)। এসময় তাদের কাছ থেকে ওমর মবিনের নামে ছাপানো ভুয়া পরিচয়দানকারী কাস্টমস সহকারী কমিশনারের ১৮টি ভিজিটিং কার্ড, চারটি ব্যাংকের চেকের পাতা, সাতটি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন অপারেটরের ১৩টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।
জান্নাত আরা বলেন, ‘প্রতারকদের মধ্যে খন্দকার ফারুক ওরফে ওমর মবিন নিজেকে কাস্টমস কমিশনার বলে পরিচয় দিতো। আর তার দুই সহযোগী ইলিয়াস ও সাইফুল কমিশনারের পিএস হিসেবে পরিচয় দিতো। তারা বিভিন্ন মানুষকে টার্গেট করে প্রথমে পিএসদের পাঠাতো এবং কাস্টমস হাউজের জব্দ করা সোনার বার নিলামে দেওয়ার কথা বলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।’
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই কয়েকজন ভুক্তভোগী পাওয়া গেছে। যাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়েছে এই চক্রটি।’
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, ‘গ্রেফতারের পর আসামি খন্দকার মো. ফারুক ওরফে ওমর মবিনের মোবাইলে মৃণাল নামে এক ভুক্তভোগীর ফোন আসে। তিনি সিআইডি কার্যালয়ে এসে প্রতারকদের শনাক্ত করেছেন। ভুক্তভোগী মৃণালের কাছ থেকেও প্রতারক ওমর মবিন কাস্টমস হাউজের সোনা কম দামে নিলামের মাধ্যমে দেওয়ার কথা বলে ২৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।’
সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আসামির কাছে ৪০ কোটি টাকার ব্ল্যাঙ্ক চেক পেয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ওমর মবিন জানায়,পাঁচ বছর আগে সে জামালপুরের এক সংসদ সদস্যের পিএস হিসেবে কাজ করতো। সেখান থেকে চাকরি ছাড়ার পর প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।’
মবিন কোন এমপি’র পিএস ছিল জানতে চাইলে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে ওই এমপি’র নাম বলা যাচ্ছে না। আমরা এ বিষয়টি যাচাই করে দেখছি।’
তিনি বলেন, ‘এই প্রতারক চক্রের আরও সদস্য রয়েছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। চক্রের সদস্যদের সবারই কাস্টমস হাউজ সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফের বিভিন্ন কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।’
আসামিদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে (নম্বর-১৮)। তাদেরকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভুক্তভোগী মৃণাল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রতারক ওমর মবিনের দুই পিএস আমার কাছে আসে এবং কাস্টমস হাউজের জব্দকৃ করা সোনা বার নিলামের মাধ্যমে স্বল্প মূল্যে দেওয়ার কথা বলে। এরপর গত ৬ জানুয়ারি মবিন আমার কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা নেয়। সে আমাকে কাস্টমসের বেশ কিছু কাগজও দিয়েছিল। পরে সিআইডি তাদের গ্রেফতার করায় সেখানে গিয়ে আমি প্রতারকদের শনাক্ত করি।