তবে, প্রশাসনের এত নজরদারি সত্ত্বেও মোটেও কমেনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রশ্ন সরবরাহের বিজ্ঞাপন দেওয়ার হিড়িক। ফেসবুক, ফেসবুক মেসেঞ্জার এবং হোয়াটস অ্যাপে অন্তত ৯ টি গ্রুপ আছে যারা প্রশ্ন সরবরাহের বিজ্ঞাপনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে আছে- এসএসসি কোশ্চেন আউট-২০১৯, এসএসসি অল বোর্ড কোশ্চেন আউট ২০১৯, পিএসসি-জেএসসি-এসএসসি-এইচএসসি অল এক্সাম সাজেশন অ্যান্ড কোশ্চেন ব্যাংক, জেএসসি-এসএসসি-এইচএসসি কোশ্চেন আউট, ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ এসএসসি ব্যাচ ২০১৯, হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ এসএসসি ২০১৯ কিউ গ্রুপ, এসএসসি মিশন ২০১৯।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার আগে থেকেই তৎপর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। তবে মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পর শিক্ষা বোর্ডগুলো পরীক্ষা চলাকালে বাড়তি সতর্ক ব্যবস্থা হাতে নেবে। এবার প্রশ্ন ফাঁস এবং নকল রোধে কঠোর নীতি অবলম্বন করবে শিক্ষা বোর্ড।
অধ্যাপক জিয়াউল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবার প্রশ্নপত্রের সেট অনেক বেশি। জেএসসি থেকে আমরা এ পরিবর্তন আনা শুরু করেছি।’
তবে এবার কত সেট ছাপা হবে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য কাউকে জানানো হবে না বলে উল্লেখ করেন।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার আগেই জেলা প্রশাসকদের কাছে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে জেলা প্রশাসকদের মোবাইল নম্বরে সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশ্ন সেট জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ীই কেন্দ্র সচিবদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র।
সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ‘সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে। প্রয়োজনে ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
তিনি জানান, প্রশ্ন প্রণয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয় পরীক্ষা শুরুর পাঁচ থেকে ছয় মাস আগেই। শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক বাছাই করে ৬৪ জন মডারেটরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৬৪ সেট প্রশ্ন তৈরির পর তা বাছাই করে নির্দিষ্ট সেট বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে।
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার সিকিউরিটি টেপ ব্যবহার না করে আরও আধুনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রশ্নফাঁস রোধে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপারের খামে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে প্রতিটি কেন্দ্রে। খাম কেউ আগে খুলে ফেললে ধরা পড়ে যাবে।’
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশন বলছে, প্রশ্নপত্র কোনোভাবেই ফাঁস হওয়ার সুযোগ নাই। যথাযথ কর্তৃপক্ষ সেভাবেই ব্যবস্থা নিয়েছে। সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশন আরও বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা জনপ্রিয় চ্যাট ইঞ্জিনগুলোর পাবলিক বা ক্লোজড গ্রুপে যারা প্রশ্ন সরবরাহ করবে বলে চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, সেগুলো ভুয়া! ইতোমধ্যে সেই সব ভুয়া কন্টেন্টগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ইউনিট ও ডিবির সমন্বয়ে ১০টি টিম ভুয়া প্রশ্নপত্র জালিয়াতদের ধরার জন্য বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।
ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে যেসব প্রশ্ন সরবরাহের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় তা সম্পূর্ণ ভুয়া। এর আগেও আমরা বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছি। আমাদের মনিটরিং সার্বক্ষণিক চলছে, একই সঙ্গে এদের ধরতে অভিযান চলমান আছে।’
ডিএমপি সূত্রে আরও জানা যায়, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও গুজব রোধে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি বাড়িয়েছে। এরইমধ্যে ১০ সদস্যের টিম প্রশ্নফাঁসকারী ফেসবুক গ্রুপ ও পেজকে মনিটর করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্নফাঁসকারী ও গুজব রটনাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সাইবার ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে ১০টি স্পেয়ার হিট টিমও গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ইলেকট্রনিক ডিভাইস দিয়ে নকল রোধে পরীক্ষা কেন্দ্রে বসানো হবে ম্যাগনেট, অপ্টিক ও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর।
প্রসঙ্গত, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ৪ হাজার ৯৬৪টি কেন্দ্রে ২৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এরমধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৭ জন, দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ১০ হাজার ২৭২ জন এবং কারিগরিতে অংশ নেবে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৭২ জন। পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে ২৭ জানুয়ারি থেকে পরীক্ষা চলার সময় ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।