দুদকের ফৌজদারি আপিলের শুনানি শেষে রবিবার (২৭ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম ফজলুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী বিপুল বাগমার।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. ফারুকুজ্জামানকে দুদক সম্পদবিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ দিয়েছিল। তিনি সম্পদবিবরণী দাখিল করেন। তবে তার দাখিল করা বিবরণীতে দেখা যায়, তিনি অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ প্রায় ৬২ লাখ ৮৯ হাজার ২৭ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। অথচ এর মধ্যে ৫০ লাখ ৮৫ হাজার ৭ টাকার সম্পদের হিসাব দুদকে দাখিল করেন।
বিষয়টি তদন্ত করে দুদকের সহকারী পরিচালক সৈয়দ আহমেদ বাদী হয়ে ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর যশোর স্পেশাল জজ নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে বেকসুর খালাস দেন। পরে ওই খালাস আদেশের বিরুদ্ধে দুদক হাইকোর্টে আপিল দায়ের করে।
হাইকোর্ট আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে নিম্ন আদালতের খালাসের রায় বাতিল করেন এবং দুদক আইনের ২৬(২) ধারায় ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২৭(১) ধারায় ৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেপ্রাপ্ত ঘোষণা করেন।
আদালত তার রায়ে বলেন, ‘আসামির উভয় দণ্ড একসঙ্গে চলবে এবং আগে কারাবাসের কারণে তাকে মোট ৪ বছরের কারাভোগ করতে হবে।’