তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০১২ সালে দেওয়া হয়। এরপর আমরা লিখিত ও ভাইভা দুই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। এরপরও ডিজি অফিস আমাদের নিয়োগ দিচ্ছে না। আমরা হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট থেকে নিয়োগের রায় এনেছি। আজ আমরা নিয়োগের দাবিতে এখানে উপস্থিত হয়েছি। নিয়োগ না দিলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবো। আমাদের দাবি একটাই আমাদের নিয়োগ দেওয়া হোক।’
এ প্রসঙ্গে চতুর্থ শ্রেণির চাকরি প্রত্যাশী মো. মুক্তার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের বিজ্ঞপ্তি হয়েছিল ২০১২ সালে। এখন পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। আমরা লিখিত এবং ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। এখন আমরা নিয়োগ চাই। এই দাবিতেই আমরা আজকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সামনে অবস্থান নিয়েছি।’
চাকরিপ্রত্যাশীরা জানান, ২০১২ সালের ২২ নভেম্বর নওগাঁ, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল, বরিশাল, ফরিদপুর, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ এই ৯ জেলায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ২৬ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষা হয়। ওই বছরের ২৪ জুন ফল প্রকাশ হয়। এতে অকৃতকার্য একজন উচ্চ আদালতে রিট করেন। ওই বছরই রিটটি খারিজ করে নিয়োগটি শেষ করার আদেশ দেন আদালত। ২০১৪ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সময় ওই নিয়োগ শেষ না করে পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এই পুনঃবিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট (মামলা নং ৪৭৪৭/১৪) করা হলে তা অবৈধ ঘোষণা করে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগ শেষ করার আদেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ৬৫৪ দিন পর আপিল (মামলা নং ৫৩৯/১৭) করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আপিলটি ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদফতর রিভিউ আবেদন করেন (মামলা নং ১৮০/১৮)। এই রিভিউও আপিল বিভাগ ২০১৮ সালের ২১ মে খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অসুস্থতা জনিত ছুটিতে থাকায় কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।