সুলতানা রাজিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আজকে গরীব বলে কি আমার মেয়ের হত্যার বিচার পামু না? আমার দুধের শিশুরে মাইরা ফেলছে নাহিদ। আমার মাইয়াটা হাঁটতেও পারতো না, তারে মাইরা ফেলছে।’
এ সময় তিনি ‘আমার আয়েশা’, ‘শেখ হাসিনার কাছে বিচার চাই’, ‘সরকার বিচার করেন’ বলে কান্নাজড়িত গলায় আহাজারি করতে থাকেন।
রাজিয়া অভিযোগ করেন, তার দুই বছরের শিশু আয়েশাকে খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়েছিল পাশের চারতলা ভবনের মালিকের ভাই নাহিদ (৪৫)। দীননাথ সেন রোডের ৮২/১/সি নম্বর চারতলা বাড়ির পাশে টিনশেড বস্তিতে মা-বাবা ও তিন বোনের সঙ্গে থাকত শিশু আয়েশা। আয়েশার বাবা গ্রিল মিস্ত্রির কাজ করেন। গেন্ডারিয়ার সাধনা ঔষধালয়ের সামনে গলিতে খেলে বেড়াতো শিশুটি। অন্যান্য দিনের মতো গত ৫ জানুয়ারি বিকালে খেলতে বের হয় সে। সন্ধ্যার দিকে চারতলা ভবনের সামনে আয়েশার রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তখন এলাকার মানুষ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এরপর এলাকাবাসী গেন্ডারিয়া থানা ঘেরাও করলে পরে পুলিশ নাহিদকে গ্রেফতার করে।
ডিসি ফরিদ আহমেদ জানান, নাহিদের মেয়েকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা। আদালতেও সে সাক্ষী হিসেবে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেয়। পাঁচ বছর আগে মারা যায় নাহিদের স্ত্রী। ঘটনার সময় নাহিদের মেয়ে বাড়িতেই ছিল। কান্নার শব্দ শুনে সে বাবার ঘরে ঢুকে একটি বাচ্চা শিশুকে তার বাবার কোলে বসানো দেখতে পায়। মেয়েটি জানায় -বাচ্চাটা মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কাঁদছিল। ওই ঘটনা দেখে আমি সেখান থেকে চলে আসি।
ফরিদ আহমেদ আরও জানান, বাচ্চাটির কান্নাকাটি শুনে নাহিদ বিরক্ত হয়ে চিৎকার করে। কয়েক মিনিট পরে সে তাকে তিনতলা থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। পুলিশ গ্রেফতার করতে গেলে পালানোর চেষ্টা করে আহত হয় নাহিদ। সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
/এসও/টিটি/