বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আগামীকাল থেকে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে। প্রতিবারের ন্যায় এবারো নিশ্ছিদ্র ও সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যা যা করণীয় সকলের সমন্বয়ে তা করা হবে। নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে মেলায় আগত দর্শনার্থী, লেখক ও প্রকাশকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
তিনি জানান, টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত প্রতিটা ইঞ্চি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় থাকবে এবং মেলায় স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।
বাংলা একাডেমিতে দুটি প্রবেশপথ ও একটি বের হবার পথ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিনটি প্রবেশপথ ও তিনটি বের হবার পথ থাকবে। প্রতিটি প্রবেশপথেই আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করে সবাইকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। এছাড়া, হাতেও তল্লাশি করা হবে, এজন্য প্রবেশপথে একটু বিলম্ব হলেও সবাইকে ধৈর্য্য ধরে পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান জনান তিনি।
মেলায় ইভটিজিংসহ যে কোনও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশ পথ থাকবে। মেলার বাইরের দিকে বাঁশের বেড়া দিয়ে পুলিশের একটি আউটার কর্ডন থাকবে যেন কোনও অপ্রত্যাশিত ব্যক্তি এসে নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটাতে না পারে।
টিএসসি দিয়ে যারা প্রবেশ করবেন তারা মলচত্বরে এবং দোয়েল চত্বর দিয়ে যারা প্রবেশ করবেন তারা রাস্তার দুই পাশে এবং ঢাবির জিমনেসিয়ামে গাড়ি পার্ক করবেন। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধসহ পুরো এলাকায় কোনও ভাসমান দোকান ও হকার থাকবে না। ছিনতাই-পকেটমার রোধে পুলিশের ফুট পেট্রোল ও মোবাইল পেট্রোল টিম কাজ করবে। যে কোনও তথ্য সংগ্রহে সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর থাকবে।
তিনি আরও বলেন, যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াত ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পুরো এলাকায় নজরদারি করা হবে। কন্ট্রোলরুমে পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে, কেউ সহায়তা চাইলে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে পুলিশ অফিসাররা প্রস্তুত থাকবে। ব্লগার-লেখকরা নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে সহায়তা চাইলে তাদের বাড়তি নিরাপত্তা দেবে পুলিশ।
ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক উষ্কানিমূলক যে কোনও বই বিপনন নিষিদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব নজরদারিতে বাংলা একাডেমির সার্ভিলেন্স টিম ও পুলিশের গোয়েন্দারা থাকবে। কোনও স্টলে এমন বই পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বইমেলায় আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য ঢাবি এলাকার এন্ট্রি পয়েন্টগুলোতে বাড়তি ট্রাফিক মোতায়েন থাকবে।