ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের ‘দখলদারিত্ব’ বৈধতা পাবে: প্রগতিশীল ছাত্রজোট

ঢাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সংবাদ সম্মেলনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীনদের দখলদারিত্ব বৈধতা পাবে বলে অভিযোগ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ভোটকেন্দ্র প্রশাসনিক ভবনে রাখার দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ডাকসুর তফসিল ঘোষণার আগেই ডাকসু ও হল সংসদ ফি প্রদানকারী শিক্ষার্থীদের ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার বিধান যুক্ত, ভোটকেন্দ্র হলে না রেখে নিকটস্থ একাডেমিক ভবনে করা ও হলে প্রয়োজনের ভিত্তিতে আসন বণ্টন নিশ্চিত করে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব কায়েমের দাবি জানানো হয়।
এসব দাবিতে ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার। এতে বলা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ স্বায়ত্তশাসনের ধারণা কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। ফলে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসন দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই তৎপর রয়েছে। প্রশাসনের ছাত্র অধিকার পরিপন্থী সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নষ্ট করছে। শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থায় ডাকসু নির্বাচনের জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন ক্যাম্পাস ও হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নির্মাণ ও সহাবস্থান নিশ্চিত করা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনও তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। বরং প্রশাসন ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের সুরেই সুর মিলিয়েছে, যা আমাদের হতাশ করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জিএম জিলানী শুভ, সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সহ-সভাপতি সাদিকুল ইসলাম সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।