রাস্তা পার হওয়ার সময় বাবা ফাইজুল মেয়েকে সাবধানে পার হতে বলেছিলেন। বাবা মেয়েকে হাত ধরতে বলেছিলেন। কিন্তু বাবাকে আশ্বস্ত করে মেয়ে বলেছিল, ‘বাবা সমস্যা নেই, আমি পার হতো পারবো।’ এরপর রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাস তাকে চাপা দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার সময় সূচি মারা যায়।
নিহত সূচির বাবা দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক ফাইজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে মেয়ের জন্য অনেক যত্ন করে নাশতা তৈরি করে দেয় তার মা। প্রতিদিনের মতো মেয়েকে নিয়ে বাসা থেকে বের হই। সড়ক পার হওয়ার জন্য মেয়েকে আমার হাত ধরতে বলি। কিন্তু সূচি বলে সমস্যা নেই বাবা, আমি পার হতে পারবো। আমাদের সঙ্গে সূচির আরও এক সহপাঠী এবং তার বাবাও ছিলেন। আমি মেয়ের সামনেই রাস্তা পার হই। এ সময় একটি মাইক্রোবাস দ্রুতগতিতে এসে মেয়েকে ধাক্কা দেয়। সূচি পড়ে গেলে গাড়িটি তাকে পিষ্ট করে চলে যায়’
মঙ্গলবার বিকালে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা ফাইজুল ইসলাম ও মা নার্গিস ইসলাম নিশি। ফাইজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিজের ফ্ল্যাটে উঠবো বলে সন্তানদের মাইলস্টোন স্কুলের দিয়াবাড়ি শাখায় এ বছরের জানুয়ারিতে ভর্তি করেছি। সাতদিন হলো মেয়ে স্কুলে যাচ্ছিলো। এরমধ্যেই এই সড়কে প্রাণ হারালো আমার মেয়ে। সড়কে আমাদের কারও জীবনের নিশ্চয়তা নেই। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলাচলের জন্য আজ আমার মেয়ে লাশ হয়ে গেলে। ওর তো কোনও দোষ ছিল না।’
এদিকে দুর্ঘটনার পর তুরাগ থানা পুলিশ মাইক্রোবাসটি আটক করেছে। এই ঘটনায় তুরাগ থানায় একটি মামলা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল মুক্তাকিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাইক্রোবাসটির চালককে আটকের চেষ্টা করছি। গাড়ির মালিকের খোঁজও নেওয়া হচ্ছে।’
আনও পড়ুন: স্কুলে যাওয়ার পথে মাইক্রোবাস চাপায় স্কুলছাত্রী নিহত