ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বনানী রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলায় সাক্ষী দিতে এসে ভিকটিম আসামিদের জামিন পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তো এক জায়গায় চাকরি করি। ওইখান থেকে তো বারবার ছুটি নিয়ে আসতে পারি না। আর এ বিষয়টা তো অফিসে বলাও যায় না।’
এদিন মামলার সাক্ষীর তথা ভিকটিমের সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামি সাফাত আহমেদের জামিন বাতিলের আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। সাক্ষ্য দেওয়া শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা ভিকটিমকে জেরা করেন। আসামি পক্ষের জেরা শেষ না হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. খাদেম উল কায়েস পরবর্তী তারিখ ৬ মার্চ দিন ধার্য করেন।
আসামি সাফাত আহমেদের আইনজীবী খায়রুল ইসলাম লিটন তার মক্কেলের জামিন স্থায়ী করার আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিন নামঞ্জুরের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে বলা হয়েছে মামলার বাদী বা ভিকটিমকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তা মোটেও সত্য নয়।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু ও বাদীর আইনজীবী ফারুক আহমেদ জামিন স্থায়ীকরণের আবেদনের বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, আসামি সাফাত আহমেদ অসুস্থ ছিল বলে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। সে এখন সুস্থ। কারাগারে নিয়ে যাওয়ার অবস্থাও আছে সে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাফাতের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২৯ নভেম্বর ধর্ষণে অভিযুক্ত আসামি সাফাত আহমেদের জামিন দেন একই ট্রাইব্যুনাল। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ জামিন বাতিলের আবেদন করেন।
এদিন কারাগারে থাকা মামলার অন্য আসামি নাঈম আশরাফের পক্ষে আইনজীবী মাসুদ রানা মো. হাফিজ জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, আসামি দীর্ঘ দুই বছর কারাগারে আছে। মামলার অন্য আসামিরা জামিনে আছে।
আদালত শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এ মামলায় ২০১৭ সালের ৭ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
অভিযোগপত্রে আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে।
অপর তিন আসামি সাফাত আহমেদের বন্ধু সাদমান সাকিফ, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে একই আইনের ৩০ ধারায় ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তার বান্ধবী ও বন্ধুকে আটকে রাখে। অস্ত্র দেখিয়ে তাদের ভয়-ভীতি দেখায় ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। বাদী ও তার বান্ধবীকে সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করে।