সরকারি চাকরির তথ্য গোপন রেখে ব্যবসায়ী হিসেবে পাসপোর্ট নেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) হিসাব সহকারী মো. তাহমিদুল ইসলাম মিলনের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত এ মামলায় বিচারিক আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছেন। এর ফলে মামলার কার্যক্রম চলতে আইনগত কোনও বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. নওশের আলী মোল্লা; আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাজ্জাদ আলী চৌধুরী।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের ১৯ আগস্ট রাজউকে কনিষ্ঠ হিসাব সহকারী হিসেবে চাকরি নেন মো. তাহমিদুল ইসলাম মিলন। ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক/হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত থাকাকালীন প্রতারণা ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নিজের পরিচয় গোপন করে চাকরিজীবীর স্থলে ব্যবসায়ী উল্লেখ করে পাসপোর্ট অধিদফতরে আবেদন করেন। পরে ব্যবসায়ী হিসেবেই তার নামে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। সেই পাসপোর্ট নিয়ে ২০০৯ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকক, কাঠমান্ডু, কুয়ালালামপুর এবং কলম্বো সফর করেন তাহমিদুল ইসলাম। পরে বিষয়টি তদন্ত করে দুদকের উপ-পরিচালক মো. নুর আলম ২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ বিচারিক আদালত তাহমিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। কিন্তু বিচারিক আদালতের সে আদেশ ও মামলাটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন (ফৌজদারি রিভিশন) করেন তাহমিদুল ইসলাম। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে মামলাটি বাতিল বিষয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট এবং মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আদেশ দেন। এর দীর্ঘদিন পর ওই রুলের শুনানি শেষ হলে তাহমিদুল ইসলামের আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।