শত ব্যস্ততার ফাঁকেও ভালোবাসা দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে চান বেশির ভাগ মানুষ। কেউ কেউ সকালেই বেরিয়ে পড়েন প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছু মুহূর্ত কাটাতে। কেউ কেউ বেরিয়েছেন পরিবারকে নিয়ে। রাজধানীর ধানমন্ডি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা এলাকা ঘুরে দেখা যায় দিনটি উদযাপনে বেশিরভাগ মানুষই লাল রঙের পোশাক বেছে নিয়েছেন।
ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের লেক থেকে শুরু করে রবীন্দ্র সরোবরসহ পুরো লেক জুড়েই ছিল ভালোবাসা পূজারিদের মিলনমেলা। ধানমন্ডির এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগল বসে ছিলেন লেকের পাড় ঘেঁষে। একান্ত গল্পে তারা মগ্ন, প্রেমিকার হাতে লাল গোলাপ আর মাথায় টিয়ারা, প্রেমিকের হাতে বেলুন। কথা হয় তাদের সঙ্গে। জানা যায়, এই যুগলের বিয়ের কথাবার্তা পাক্কা। এ বছর পড়ালেখা শেষ হলেই বিয়ের পিড়িতে বসবেন তারা। বিয়ের আগে এই ভালোবাসা দিবস স্মরণীয় করে রাখতে চান তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রমনা পার্ক, শাহবাগ সকাল থেকেই ছিল লোকে লোকারণ্য। দুপুর গড়ানোর পর ভিড় আরও বাড়তে থাকে।
ভালোবাসা দিবস উদযাপনের ইতিহাস বেশ পুরানো। এ নিয়ে একাধিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে একজন রোমান ক্যাথলিক ধর্মযাজককের গল্প। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে ওই ধর্মযাজক একই সঙ্গে চিকিৎসকও ছিলেন। তখন রোমান সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় ক্লডিয়াস। বিশ্বজয়ী রোমানরা একের পর এক রাষ্ট্র জয় করে চলেছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে আরও সৈন্যবাহিনীর প্রয়োজন হয় রোমানদের। কিন্তু তরুণরা এই যুদ্ধে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করে। রোমান সম্রাটের ধারণা ছিল, পুরুষরা বিয়ে করতে না পারলে, যুদ্ধে যেতে রাজি হবে। তিনি তাই যুবকদের জন্য বিয়ে নিষিদ্ধ করলেন। কিন্তু তরুণদের এই নিয়মের বেড়াজালে আটকে রাখা যায়নি। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এগিয়ে এসে প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিয়ের ব্যবস্থা করলেন। একসময় শাসকগোষ্ঠীর হাতে ধরা পড়লেন সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন। তাকে পাঠানো হলো কারাগারে। অনেক তরুণ-তরুণী তাকে দেখতে ফুল নিয়ে জেলখানায় যায়। এর মধ্যে ছিল দৃষ্টিহীন এক তরুণী। তার সঙ্গে ভ্যালেন্টাইনের হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর তারা বিয়েও করেন। এ খবর পাওয়ামাত্র ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন রোমান সম্রাট। ফাঁসির দিনটি ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে প্রিয়তমাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন তিনি, যার শেষ কথা ছিল – ‘লাভ ফ্রম ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’