আসামিকে ভুয়া অব্যাহতিপত্র, দুদক চেয়ারম্যানকে তদন্তের নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্ট

দেড়শ' কোটি টাকার সার আত্মসাতের মামলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) গুদামের ইনচার্জ মো. নবীর উদ্দিন খানের পক্ষে দাখিল করা ভুয়া অব্যাহতিপত্রের বিষয়টি তদন্ত করতে দুদক চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ৭ এপ্রিল এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় নবীর উদ্দিন খানের পক্ষে করা জামিন আবেদনের শুনানিকালে রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন– জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও মো. জাকির হোসেন সরদার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন– ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন– আইনজীবী এম এ আজিজ খান।

মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, বগুড়ার সান্তাহারে অবস্থিত বিসিআইসি’র রাসায়নিক সারের গুদাম থেকে ৫২৩৪২.৮০ মেট্রিক টন সার আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে এর ইনচার্জ মো. নবীর উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে; যার বাজারমূল্য ১৫৩ কোটি ৩৬ লাখ ১৩ হাজার ৭৫২ টাকা। এরপর দুদক অভিযোগটি অনুসন্ধান করে। অনুসন্ধান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর বগুড়া আদমদীঘি থানায় দুই জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। নবীর উদ্দিন ছাড়া মামলার অন্য আসামি হলেন মেসার্স রাজা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রাশেদুল ইসলাম।

এদিকে, মো. নবির উদ্দিন খানের জামিন শুনানির সময় তার আইনজীবী দুদকের সচিব স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দেন; যাতে দেখানো হয়, ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি দুদক আসামিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। কিন্তু ওই অব্যাহতিপত্রটি দুদকের নয় বলে দুদকের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়। এরপর আদালত গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আসামি, তদবিরকারী ও দুদকের সংশ্লিষ্ট অফিসারকে আজ রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আদালতে তলব করেন।

এর ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুদকের পরিচালক  (অনুসন্ধান ও তদন্ত) সৈয়দ ইকবাল হোসনে ও আসামি মো. নবীর উদ্দিন খানকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় দুদকের পরিচালক আদালতকে জানান, এই ধরনের কোনও অব্যাহতিপত্র দুদক দেয়নি এবং চিঠিটি সম্পূর্ণ ভুয়া।

এসময় আসামি নবির উদ্দিন খান আদালতকে জানান, তিনি তখন কারাগারে ছিলেন, ওই সময়ে দুদক কর্মকর্তা ফারজানা আহমেদ, আলতাফ হোসেন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম তার লোককে এই কাগজ (অব্যাহতিপত্র) দিয়েছেন। বিনিময়ে তার স্ত্রীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকাও নেন। তিনি জেলে থাকায় তার স্ত্রী ধান ও মাছ বিক্রি করে এই টাকা দেন। এরপর তিনি আদালতে টেলিফোনে কথোপকথনের একটি পেন-ড্রাইভও আদালতে দেন।

এরপর দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন আদালতকে জানান, এই ধরনের ভুয়া দুদক কর্মকর্তাদের দু’টি গ্যাংকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন। পরে আদালত পেন-ড্রাইভ ও প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি আদালতের কাস্টডিতে রাখেন এবং দুদকের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেন।