‘ও ভোট! তাই নাকি, কবে ?’

ডিএনসিসি উপ-নির্বাচন

নাফিজ রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-ডিএনসিসি’র বাসিন্দা। সিটি নির্বাচনে  ভোটের পরিস্থিতি জানতে চাইলে  কিছুটা বিস্ময়ের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ও ভোট! তাই নাকি, কবে?’ নাফিজের মতো ঢাকা উত্তরের অনেক এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, ডিএসসিসি’তে ভোট কবে, তা তারা জানেন না। আবার কেউ কেউ  জানলেও ভোট নিয়ে তাদের মধ্যে কোনও আগ্রহ দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে এনিয়ে  কথা বলে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেলেও তাদের সবার সুরটা মোটামুটি একই— ও ভোট,  কবে ?  

মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদের উপ-নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা।  বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উত্তর সিটির ৫৪টি ওয়ার্ডে মেয়র পদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এদিন একইসঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণে নতুন করে সৃষ্ট ৩৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ভোট হবে।

নাফিজ রহমানের সঙ্গে কথা হয় মিরপুর এক নম্বরের বাসস্ট্যান্ডে। তিনি বলেন, ‘কিছু পোস্টার দেখেছি বাসার কাছে। অতটা খেয়াল করে দেখিনি কিসের পোস্টার। দেখি, যদি ইচ্ছে করে ভোট দিতে যাবো।’

উত্তরের ভোট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও  হচ্ছে আলোচনা। যাদের ভোট নিয়ে আগ্রহ আছে,ফেসবুকে তারা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করছেন। সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে শরিফুল হাসান নামে একজন তার ফেসবুকে লিখেছেন — ‘২৮ ফেব্রুয়ারি না‌কি ঢাকা উত্তর সি‌টি‌তে নির্বাচন? কোনও আওয়‌াজই পেলাম না? আচ্ছা, কার সঙ্গে কার নির্বাচন? প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আ‌ছে কী? তাহ‌লে এতে কষ্ট ক‌রে সরকা‌রি টাকা খরচ ক‌রে নির্বাচন কেন? নির্বা‌চিত ঘোষণা কর‌লেই হয়। আফসোস, এই শহ‌রে একজন মেয়র ছি‌লেন। শুভ রা‌ত্রি সবাই‌কে। চারপা‌শে কখনও কখ‌নও আঁধার না‌মে ব‌লেই বোধ হয় আমরা আলো চিন‌তে প‌া‌রি।’

ডিএনসিসির মেয়র পদে আতিকুল হকের পোস্টারনির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী রয়েছেন পাঁচ জন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির শাফিন আহমেদ, এনপিপি’র আনিসুর রহমান দেওয়ান, পিডিপি’র শাহীন খান ও  স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহিম।

মঙ্গলবার ডিএনসিসি’র মিরপুর, গাবতলী, পল্লবী, কাফরুল, মহাখালী, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে সবচেয়ে বেশি পোস্টার দেখা গেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলামের। বনানীর  কিছু  জায়গায় শাফিন আহমেদের পোস্টার বেশি থাকলেও অন্যান্য এলাকায় তার পোস্টার তেমন একটা চোখে পড়েনি। আর অন্য তিন প্রার্থীর কোনও প্রচারণা সামগ্রী খুঁজে পাওয়া যায়নি।

৫৪টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত উত্তর সিটির  ভোটার সংখ্যা ত্রিশ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫৩০ ও্ নারী ১৪ লাখ ৭২ হাজার ০৯১ জন।

মহাখালিতে  বাসস্টান্ডে কথা হয় কয়েকজন সঙ্গে।  আসাদুর রহমান থাকেন মহাখালিতে, নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পল্টনে। তিনি উত্তরের ভোটার। ভোট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, খবরে দেখি ভোটের কথা বলে,  কিন্তু এলাকার পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে তো বুঝি না ভোট আসলে হবে কি না। ভোটের উৎসব টের পাইনি।

উজ্জ্বল আহমেদের বাসা মিরপুরে। চাকরি করেন মহাখালীর একটি প্রতিষ্ঠানে। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের  প্রার্থীর  পোস্টার দেখেছি। টেলিভিশনের খবরে অনেক প্রার্থী দেখি। কিন্তু  আমাদের এলাকায় তো কোনও প্রার্থী দেখি নাই। ভোট কেমন হবে এটা তো বোঝায়ই যায়।’

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনি এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তর সিটির নির্বাচনি এলাকায় বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ২৪ ঘণ্টা যন্ত্রচালিত যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। একইসঙ্গে মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ১ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

গাবতলীর একটি চায়ের দোকানে আড্ডায় মেতে আছেন স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি। বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা, চকবাজারে আগুন ঘটনা নিয়ে তাদের মধ্যে চলছে তর্ক-বির্তক। তবে তাদের এই আলোচনা ও বিতর্কে ছিল না উত্তরের ভোট প্রসঙ্গটি। ভোট নিয়ে প্রশ্ন করলে তাদেরই একজন আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘ভোট আর এখন জনগণের বিষয় না। আমাদের অতো ভাবার কিছু নেই। বরং ভোটের দিন গাড়ি চলে না, এটা আরও  দুর্ভোগ বাড়ায়।’

তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘ভোট তো ভোটারদের জন্যই। আমাদের তো ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। তবে এবার মেয়র নির্বাচনে আমেজ নেই, এটা সত্য। এটার একটা কারণ হতে পারে— ভালো প্রার্থী নেই, তাই জমে ওঠেনি।’

তাদের আড্ডার আরেক সঙ্গী আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ভোটের তারিখই তো জানতাম না, আজকে এই এখনই শুনলাম। ভোট দিতে যাবো কী, ভয় করে। কখন কী ঘটে তার তো ঠিক নেই। ’