বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার এই হত্যা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে সাংবাদিকের এসব তথ্য জানান।
ডিসি মারুফ সরদার বলেন, ‘মূলত লোভের কারণেই দুই গৃহকর্মী একত্রিত হয়ে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে। তারা ভেবেছিল, বাসায় অনেক টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার পাবে। কিন্তু হত্যার পর তারা সাত হাজার টাকা ও একটি চেকবই নিতে পেরেছিল কেবল।’
তিনি আরও জানান, মিরপুরের পল্লবী এলাকা থেকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গৃহকর্মী রেশমাকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পারেন তারা। অধ্যক্ষকে দুই গৃহকর্মী বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলেও রেশমা স্বীকার করে।
রেশমার বরাত দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা ক্ষোভে ও লোভে পড়ে তাকে হত্যা করে। তারা ধারণা করেছিল, এ বাসায় এই বৃদ্ধা ছাড়া কেউ থাকে না। সেক্ষেত্রে তাকে হত্যা করে অনেক টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।’
মারুফ সরদার বলেন, ‘এ বিষয়ে আরও তদন্ত হচ্ছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্টও হাতে আসেনি। সবকিছু মিলে হত্যার আর কোনও উদ্দেশ্য আছে কিনা সেটা পরে জানা যাবে।’
গত ১০ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসায় খুন হন মাহফুজা চৌধুরী পারভীন। এলিফ্যান্ট রোডের সুকন্যা টাওয়ারের বাসায় থাকতেন তিনি। এ ঘটনার পর তার বাসার দুই গৃহকর্মী স্বপ্না ও রেশমা পালিয়ে যায়। মাহফুজা চৌধুরী পারভীনের স্বামী ইসমাত কাদির গামা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি ডাকসুর সাবেক জিএস ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি। ঘটনার পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন মাহফুজা চৌধুরী পারভীন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই বাসায় গৃহকর্মী সরবরাহকারী রুনু ওরফে রাকিবের মাকে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে সঙ্গে নিয়ে এ মামলার আরেক আসামি স্বপ্না ওরফে রিতা আক্তারকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে নেত্রকোনার মদন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। স্বপ্নার কাছ থেকে একটি সোনার চেইন ও সাত হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।
এ বছরের জানুয়ারিতেই স্বপ্না ও রেশমা নামে দুই গৃহকর্মীকে রুনু নামে এক নারী অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনের বাসায় কাজে দেন। স্বপ্নার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনায় আর রেশমার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী। গ্রেফতারের পর তারা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।