ছয় জনের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মামলা

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষঅনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানের ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে আটটি মামলা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।  নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান বাদী হয়ে রবিবার  (৩ মার্চ)  ডিএসসিসির নগর ভবনে স্থাপিত বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে এসব মামলা করেন।

নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলার পর স্পেশাল মেট্রো পলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী পাভেল সুইট আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। এপ্রিল মাসের বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।’

আসামিরা হলো- ‘ওবে স্লিম’ প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ হানিফ, বিক্রয়কারী মোহাম্মদ ইব্রাহিম হোসেন, মো. পলাশ মিয়া, মো. আরিফুল উল্লাহ, মো. সাইদুর রহমান ও  পারভীন বেগম। এরমধ্যে মো. আরিফুল উল্লাহ ও মো. পলাশ মিয়াকে দুটি মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বায়োটেক বায়োসাইন্স নামে একটি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে মোটা মানুষের ওজন কমাতে ‘ওবে স্লিম’ নামে একটি ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করে আসছে। একইভাবে ‘বিপিআই হেলথ সিএলএ প্লাস কারটিনাইন’নামেও আরেকটি পণ্য একইভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। পণ্য দুটির বিজ্ঞাপনে বলা হয়, কোনও প্রকার ব্যায়াম ছাড়াই প্রতি মাসে ৫ থেকে ১২ কেজি ওজন কমাবে। যা প্রতারণামূলক ও বিভ্রান্তিকর। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এবং মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা ২০১৭ এর লঙ্ঘন।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান বলেন, ‘কোনও সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে মাসে ৫-১২ কেজি ওজম কমানো সম্ভব নয়। এটি সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক। এছাড়া বাংলাদেশে বিক্রিত (উৎপাদিত ও আমদানি উভয় ক্ষেত্রেই) খাদ্যপণ্যের গায়ের লেবেল আইন অনুযায়ী বাংলায় লেখা থাকার কথা। কিন্তু, এখানে তা নেই। এছাড়া একটি পণ্যের গায়ে সাভারের ঠিকানা থাকলেও আরেকটি পণ্যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে হলিউড।’

কামরুল হাসান আরও জানান, বিষয়টি জানতে পেরে আমরা প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ হানিফকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে ডাকি। তিনি ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর কার্যালয়ে এসে ১৫ দিনের মধ্যে এ ধরনের প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু, পরবর্তীতে দেখা যায় তিনি এ ধরনের বিজ্ঞাপন বন্ধ না করে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা অব্যাহত রেখেছেন।

কামরুল হাসান বলেন, ‘খাদ্যপণ্য নিয়ে প্রতারণা কমাতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে আসছে। তারপরও নামে-বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলে এক ধরনের প্রতারক জনগণকে বিভ্রান্ত করে আসছে। যা নিরাপদ খাদ্য আইনের লঙ্গন।’