নারী রিকশা চালক রোজিনারিকশা ঢাকার সৌন্দর্য। যুগ যুগ ধরে অনেকেরই প্রিয় বাহন এই রিকশা। আর অনেক পরিবারের উপার্জনের মাধ্যম। অন্যান্য ব্যবসার চেয়ে পুঁজি অপেক্ষাকৃত কম লাগে বলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকেই এই রিকশা চালিয়ে পরিবারের প্রয়োজন মেটান।
এই রিকশা চালানো যেমন পরিশ্রমের, তেমনি ঝুঁকির। তাই আমাদের সামাজিক বাস্তবতা মেনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়তো বাড়ির পুরুষরা এই দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। তবে ঢাকার রাস্তায় তার ব্যতিক্রম চোখে পড়েছে। রাজধানীর শিকদার মেডিক্যাল ও বউ বাজার এলাকায় গেলে দেখা মিলবে এক নারী রিকশাচালকের। অবাক করা হলেও নির্মম সত্য এই যে পরিবারের দায়িত্ব তুলে নিতে রিকশা চালাতে হচ্ছে রোজিনা বেগম নামের ওই নারীকে। রিকশার তিন চাকার ওপর ভর করে তিনি লড়ছেন জীবন সংগ্রাম।
নারী রিকশা চালক রোজিনারোজিনা একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার এক ছেলে, এক মেয়ে। তার স্বামীই মূলত রিকশা চালাতেন। কিন্তু কয়েকবছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামী মারা যান। তখন যেন সন্তানদের নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েন রোজিনা। বুঝতে পারছিলেন না কি করবেন। প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভিক্ষার কথাও ভেবেছেন। কিন্তু মন সায় দেয়নি।
রোজিনা বেগম বলেন, ‘আমাদের নবী বলে গেছেন যে, ভিক্ষা করো না। আমি কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এরপরই চিন্তা করি ব্যাটারি চালিত রিকশা চালাবো।’
নারী রিকশা চালক রোজিনা৩বছর দুই-এক আগে রিকশা চালানো শুরু করেন রোজিনা। বরিশালের এই মেয়ে, শারীরিকভাবে আর ১০টা সাধারণ মানুষের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও ঠিকই লড়াই করে যাচ্ছেন। চালাচ্ছেন তিন চাকার রিকশা, আর সেই চাকার ওপর ভর করেই চলছে তার সংসার।
রিকশা চালিয়ে প্রতিদিন ৬০০-৭০০ টাকা আয় হয় রোজিনার। এরমধ্যে সাড়ে ৩৫০ টাকা দিতে হয় মালিককে। বাকিটা দিয়ে চলে সংসার। ছেলে পড়াশোনা করছে মাদ্রাসায় আর মেয়ে ব্র্যাকের একটি স্কুলে।
নারী রিকশা চালক রোজিনা২পথে কোনও হয়রানির সম্মুখিন হতে হয় কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে রোজিনা বলেন, ‘কোনও সমস্য হয় না। বরং সাহায্য করারই চেষ্টা করে সবাই। অনেকে সেলফিও তোলেন।’
নারীপক্ষের আমন্ত্রণে ৮মার্চ নারী দিবসের অনুষ্ঠনে রিকশা নিয়ে যোগ দেন রোজিনা। সেখানেই তিনি নিজ জীবন সংগ্রামের কথা জানান।