তামাক পণ্যের কর কাঠামো পরিবর্তন ও মূল্যবৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো। আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে শনিবার (২৩ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনের সংবাদ সম্মেলনে প্রজ্ঞা ও অ্যান্টি টোবাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স এর উদ্যোগে তামাক পণ্যের কর কাঠামো পরিবর্তনের জন্য বেশকিছু প্রস্তাব জানানো হয়েছে।
সিগারেটের মূল্যস্তর চারটি থেকে দুটিতে কমিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়েছে, ৩৫ ও ৪৮ টাকা মূল্যের দুটি স্তরকে একত্রিত করে একটি মূল্যস্তর (নিম্নস্তর) এবং ৭৫ ও ১০৫ টাকার মূল্যস্তরকে একত্রিত করে আরেকটি মূল্যস্তরে (উচ্চস্তর) নেওয়া হোক। নিম্নস্তরে ১০টি সিগারেটসহ একটি প্যাকেটের খুচরা মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং উচ্চস্তরে একই পরিমাণ সিগারেটের প্যাকেটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ১০৫ টাকা নির্ধারণ করে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এছাড়াও সবক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটে ৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার কথা বলেছে তামাকবিরোধী সংগঠন গুলো।
এছাড়া আরও যেসব প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো হলো- বিড়ির মূল্য বিভাজন তুলে দেওয়া। সবধরনের ফিল্টারবিহীন ২৫টি বিড়ির খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ৬ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা এবং ফিল্টারযুক্ত ২০টি বিড়ির খুচরা মূল্য ২৮ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ৪ দশমিক ৮ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।
ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা বিলুপ্ত করে সিগারেট ও বিড়ির মতো ‘খুচরা মূল্যের’ ভিত্তিতে করারোপ করা, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা এবং প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার ওপর ৫ টাকা ও প্রতি ১০ গ্রাম গুলোর উপর ৩ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।
এছাড়াও সব তামাক পণ্যের খুচরা মূল্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য থাকবে বলে প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে সকল তামাক পণ্যের ‘খুচরা মূল্যের’ ভিত্তিতে করারোপ করা, স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ২ শতাংশ বৃদ্ধি করা, তামাকের চুল্লিপ্রতি বাৎসরিক পাঁছ হাজার টাকা লাইসেন্স ফি আরোপ করা ও সব রকমের ই-সিগারেট এবং হিটেড তামাক পণ্যের উৎপাদন, আমদানি এবং বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করাসহ মোট ১১টি সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলন শেষে পিকেএসএফ এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, ‘মূল্যস্তর ৪ থেকে ২ হয়তো কখনও হবে না। নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো, হয়তো কোনও একদিন তা সফল হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিল ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহসানিয়া মিশন, অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট, ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল একশন, সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ থিয়েটার আর্টস, তামাকবিরোধী নারী জোটের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিআইডিএস এর সিনিয়র গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।