রাজধানীর উত্তরার একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। পুলিশ জানায়, নিহত শিশুর নাম বৈশাখী আক্তার (১১)। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়ির ৬বি ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটির মা-বাবাসহ স্থানীয় বস্তির শতাধিক মানুষ বাড়িটি অবরুদ্ধ করে সড়কে বিক্ষোভ শুরু করে। বিকালের পর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
উত্তরা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আলমগীর গাজী জানান, বৈশাখীকে হত্যা করে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। তাদের দাবি, ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা রিফাত ফেরদৌস ও তার স্ত্রী নাজরানা সাত্তার বৈশাখীকে হত্যা করেছে।
তিনি আরও জানান, নিহত বৈশাখীর বাবা আজিজুল পেশায় রিকশাচালক। তিনি তুরাগের বাউনিয়া এলাকায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকেন। শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ হয়। এরপর প্রতিবাদে ওই বাসার সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। একপর্যায়ে গেট ভেঙে ফেলা হয়। পুলিশ তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলে পাল্টা ইট-পাটকেল ছোড়েন তারা। বেলা ৫টায় ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার নাবিদ কামার শৈবাল সেখানে উপস্থিত হন। সাড়ে ৫টার দিকে উত্তরা জোনের কয়েক প্লাটুন পুলিশ, আর্মড পুলিশ ও র্যাবের সহায়তায় লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয় এবং অভিযুক্ত গৃহকর্তা রিফাত ফেরদৌসকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। এছাড়াও লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পরিদর্শক (অপারেশন) আলমগীর গাজী।
এদিকে গৃহকর্তা ফেরদৌসকে পুলিশ আটক করার আগে তিনি সাংবাদিকদের জানান, শিশু বৈশাখী গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের বাসায় ছিল। সম্প্রতি চার দিনের ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিল। ২৫ মার্চ তাকে ফের রেখে যান তার মা। ফিরে আসার পর রাতে কিছু না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে বৈশাখী। ২৬ মার্চ ছুটির দিন হওয়ায় সবাই একটু দেরিতে ঘুম থেকে ওঠে। সকাল ১১টার দিকে বৈশাখীকে তার রুমে খুঁজতে গেলে রুমটি ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। চাবি দিয়ে দরজা খুলতেই তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় জানালার গ্রিলের সঙ্গে দেখা যায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের এসআই দেলোয়ার ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ দেখতে পান।
এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৈশাখী ঝুলন্ত অবস্থায় থাকলেও তার দুই পায়ের গোঁড়ালি মেঝের সঙ্গে লেগে ছিল এবং পা থেকে হাঁটু প্রায় ৪ ইঞ্চি পরিমাণ বাঁকা ছিল।
এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি লাশ উদ্ধার করেছি। সুরতহাল রিপোর্টে সব বর্ণনা আছে।’