বুধবার (২৭ মার্চ) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (তেজগাঁও) বিপ্লব কুমার সরকার তার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘কাতারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডেলটা গ্রুপ, আলী বিন গ্রুপ, এবিএ গ্রুপের নাম করে রিটেইল স্টোর ম্যানেজার বা কমার্শিয়াল ম্যানেজার পদের জন্য বিডিজবসে চাকরি বিজ্ঞাপন দিতো প্রতারক চক্র। চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রলোভন দেখানো হতো, লোভনীয় বেতন ও সপরিবারে কাতারে গিযে চাকরি করার সুযোগ পাওয়ার কথা বলা হতো।’
প্রতারণার প্রক্রিয়া সম্পর্কে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, আগ্রহী প্রার্থীরা বিডিজবসে বিজ্ঞাপন দেখে, ওই লিংকে গিয়ে আবেদন করেন। প্রার্থীকে আবেদনে একটি ইমেইল অ্যাড্রেস দিতে হয়। আবেদনের ৫-৭ দিন পর প্রতারকচক্র প্রার্থীর কাছে একটি ইমেইল পাঠায়। এতে বলা হয়, ওই পদের জন্য আপনাকে নির্বাচন করা হয়েছে। নিয়োগটি সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির একজন প্রতিনিধি বাংলাদেশে অবস্থান করছে বলে জানানো হয়। কোম্পানি প্রতিনিধির ফোন নম্বরও দিয়ে দেওয়া হয়। পরে আবেদনকারী ওই প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করলে নানা কথা বলে ব্যস্ততা দেখানোর চেষ্টা করে। স্বাভাবিকভাবে আবেদনকারী বারবার যোগাযোগ করে এবং প্রতিনিধির সঙ্গে একসময় কথা হয়। একজন আবেদনকারীর কাছ থেকে ৩-৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রতারকরা।
বিপ্লব কুমার বলেন, ‘আবেদনকারীকে কাতার দূতাবাসের মাধ্যমে সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র সত্যায়ন, অফার লেটার, অ্যাপয়েনমেন্ট লেটার, কনফারমেশন লেটার এ ধরনের নানা অজুহাতে টাকা নেয় প্রতারকরা। এই টাকার পরিমাণ জনপ্রতি ৩-৪ লাখ টাকা। বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে এসব টাকা হাতিয়ে নিতো তারা। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর যেসব নম্বর থেকে যোগাযোগ ও বিকাশ বা রকেটে টাকা নেওয়া হতো, সেসব নম্বরও বন্ধ করে দিতো। এরপর থেকে প্রতারকরা লাপাত্তা।’
একজন ভুক্তভোগী প্রতারণার অভিযোগ এনে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের এডিসি হাফিজ আল ফারুকের নেতৃত্বে অনুসন্ধানের পর এ চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের রিমান্ডে এনে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিসি বিপ্লব কুমার।