প্রথম দিনে স্টপেজে দাঁড়াতে পুলিশি বাধা, যত্রতত্র ওঠানামা

চক্রাকার বাস সার্ভিসপাবলিক পরিবহন ব্যবহারে যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে এবং অত্যাধুনিক যাত্রী সেবা নিশ্চিতে রাজধানী ঢাকার ধামমন্ডি, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট ও আজিমপুর রুটে চক্রাকার এসি বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। তবে উদ্বোধনের দিনেই সার্ভিসটি ঘিরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। সার্ভিসটি পরিচালনায় নির্ধারিত কাউন্টার স্থাপন না করায় যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি যাত্রী সংগ্রহে বিভিন্ন স্টপেজে দাঁড়াতে গেলে ট্রাফিক পুলিশরা বাসগুলোকে সরিয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যে কারণে বেশিরভাগ বাসই প্রথমদিনে প্রায় যাত্রীশূন্য অবস্থায় চলাচল করেছে। প্রথমদিনে ১০টি বাস দিয়ে সার্ভিসটি শুরু হয়।

বুধবার (২৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মেয়র আতিকুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও বিআরটিসি চেয়ারম্যান মশিউর রহমানকে নিয়ে কলাবাগান মাঠের সামনে থেকে সার্ভিসটির উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা সংক্রান্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। বিআরটিসির তত্ত্বাবধানে এ সার্ভিসটি পরিচালিত হবে। দূরত্ব বুঝে এ বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০-২০-৩০ টাকা।

প্রথম দিনের চক্রাকার সার্ভিসের বাস থেকে যাত্রীদের যত্রতত্র ওঠানামা করতে দেখো গেছেউদ্বোধনের পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাসেই যাত্রী সংখ্যা ছিল খুবই কম। ডাকাডাকি করেও বাসে যাত্রী ভেড়াতে পারছিলেন না সহকারীরা। পুরো রুটে ৩৬টি স্টপেজ ও টিকিট বিক্রির স্থান থাকার কথা থাকলেও তা এখনও স্থাপন করা হয়নি। যে কারণে বাসের মধ্যেই যাত্রীদের টিকিট বিক্রি করা হয়। বৃহস্পতিবার থেকে টিকিট বিক্রির কাউন্টার চালুর কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাসের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বলছেন- প্রথম দিন হওয়ায় যাত্রীদের অনেকেই বিষয়টি জানেন না। বাসের রুট সম্পর্কেও অনেকের ধারণা নেই। সে কারণে যাত্রী পাওয়া যায়নি। তবে যাত্রীদের মধ্যে সার্ভিসটির বিষয়ে আরও জানাজানি হলে যাত্রী পাওয়া যাবে। তাছাড়া নির্ধারিত স্থান ও যাত্রী ছাউনির সামনে দাঁড়ালেও ট্রাফিক পুলিশের বাধার মুখতে পড়তে হয়েছে। যে কারণে বাসের যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে।

যাত্রীদের যত্রতত্র ওঠা-নামা করতে দেখা গেছেবেলা সাড়ে ৩টার দিকে আজিমপুর এতিমখানা যাত্রী ছাউনির সামনে গিয়ে দেখা গেছে, ১৫-৪৮১৪ নম্বরধারী বাসটির চালকের সহযোগী জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যাত্রী নেই। অনেকেই জানেন না। টিকিট কাউন্টার এখনো চালু করা হয়নি। কাল থেকে কাউন্টার সিস্টেম চালু করা হলে যাত্রী আরও বাড়তে পারে। এখনো অনেক যাত্রী অভ্যস্ত না হওয়ায় ভাড়া নিয়ে বাক-বিতণ্ডা করতে হচ্ছে। তবে ভ্রমণকারীরা সার্ভিসটিকে ভালো বলেছেন।

যাত্রী ছাউনির সামনে থেকে পুলিশ সদস্যদের বাস সরিয়ে দিতে দেখা গেছেএর একটু পর পলাশী মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, সিটি করপোরেশনের তৈরি যাত্রী ছাউনির সামনে সার্ভিসটির ১৫-৪৮১৩ নম্বরধারী একটি বাস দাঁড়িয়েছিল। তবে সেখানে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের একজন সদস্য বাসের চালক ও হেলপারদের ডেকে জানিয়ে দেন এখানে বাস থামানো যাবে না। পরে বাস সরিয়ে নিলে একইস্থানে বেসরকারি গণপরিবহনের বিভিন্ন বাসকে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

জানতে চাইলে বাসটির চালকের সহযোগী ইকবাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পুলিশ স্টপেজে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করতে দিচ্ছে না। পথে পথে বাধা দিচ্ছে।

তবে বাস সার্ভিসটি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভ্রমণকারী আশরাফ উদ্দিন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাসগুলো অনেক সুন্দর ও আরামদায়ক। এসি সার্ভিস হওয়ায় ভ্রমণে ভালো লাগছে। যে ভাড়া ধরা হয়েছে তাও খুব বেশি বলে মনে হয় না। কারণ এ ধরনের সার্ভিসে এ পরিমাণ ভাড়া দিলে কষ্ট হবে না।

প্রথম দিনে যাত্রী ছিল কমআশরাফি নামে অপর এক যাত্রী বলেন, ‘আমরা আগে শুনিনি। আজ দেখেছি। কাল থেকে এই বাসে ভ্রমণ করবো। তবে তিনি বলেন, সার্ভিসটি আজিমপুর থেকে ধানমন্ডি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ না রেখে মিরপুর পর্যন্ত করলে আরও ভালো হবে। কারণ এই রুটির বেশিরভাগ যাত্রী মিরপুর থেকে আসা যাওয়া করে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথম দিন ১০টি গাড়ি নামানো হয়েছে। আরও ৫-৭টি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াধীন। আগামী দুই এক দিনের মধ্যেই তা শেষ হবে। প্রতি ৫ মিনিট পরপর গাড়িগুলো স্টপেজে আসবে। আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবতা বুঝে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।’

ট্রাফিক পুলিশের বাধার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ডিএমপি কমিশনারের পরামর্শ গ্রহণ করে ৩৬টি স্টপেজ নির্ধারণ করে দিয়েছি। আমি পুলিশকে জানাবো যাতে তারা নির্ধারিত স্থানে বাস দাঁড়ালে বাধা না দেন।’