বনানীর ২৩-তলা এফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় জমির মালিক এস এম এইচ আই ফারুক ও ভবনের বর্ধিত অংশের মালিক বিএনপি নেতা তাসভিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশ (পরিদর্শক) জালাল উদ্দিন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং অগ্নিকাণ্ডের সঠিক তথ্য ও পলাতকদের গ্রেফতারের জন্য অভিযুক্তদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করেন। শনিবার (৩০ মার্চ) রাতে এস এম এইচ আই ফারুককে (৬৫) বারিধারার বাসা থেকে এবং তাসভিরুল ইসলামকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
আদালতে জমির মালিক অভিযুক্ত এস এম এইচ আই ফারুকের পক্ষে ঢাকা বার আইনজীবী সমিতির সভাপতি গাজী শাহ আলম শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘জমির মালিক ফারুক হলেও ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে তার চুক্তি ছিল ১৮-তলা পর্যন্ত ভবনটি নির্মাণের। পরবর্তীতে ডেভেলপার কোম্পানি অবৈধভাবে ভবনটি ২৩-তলা পর্যন্ত বর্ধিত করে। সে বিষয়ে মালিক ফারুক বনানী থানায় একটি জিডিও করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবনটি নির্মাণের পর তা বিভিন্ন লোকের মালিকানায় ছিল। ভবনটির মালিকদের একটি ম্যানেজমেন্ট ছিল, যেখানে তাদেরও গাফিলতি ছিল। যেহেতু আসামি ৭৩ বছরের একজন ক্যানসার রোগী, তাই সবদিক বিবেচনা করে রিমান্ড আবেদন বাতিল করে তার জামিন চাচ্ছি। তার পক্ষে ঢাকা বার আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রচিসহ আরও অনেকে শুনানি করেন।’
অপর অভিযুক্ত তাসভিরুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে মামলায় দণ্ডবিধির যে ধারাগুলো উল্লেখ করা হয়েছে তা এ মামলার জন্য উপযুক্ত না। আসামি একজন বয়স্ক ব্যক্তি এবং ওপেন হার্ট সার্জারির রোগী। নিয়মিত ডাক্তারের চেকআপে থাকতে হয় তাকে। তাই তার রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন চাচ্ছি।’
এদিকে আদালতে বনানী থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) রকিবুল ইসলাম রিমান্ডের আবেদন করে বলেন, ‘ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য ও অগ্নিকাণ্ডের মূল তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া দরকার।’ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কাজে অংশ নেন। প্রায় সাড়ে ছয়ঘণ্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জন মারা গেছেন।
পরে এ ঘটনায় শনিবার রাতে বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিল্টন দত্ত বাদী হয়ে ৪৩৬/৩০৪(ক) /৪২৭/১০৯ ধারায় মামলা (নম্বর ৩৭) করেন। এতে এস এম এইচ আই ফারুক, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ও তাসভিরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘তাসভির ও ফারুকের ১০ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হবে’
এফ আর টাওয়ারে আগুনের মামলা তদন্তে ডিবি