সোমবার (১ মার্চ) রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিন এস এম এইচ আই ফারুক হোসেন ও তাসভির উল ইসলামের কাছ থেকে এসব তথ্য জানতে পেরেছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) কর্মকর্তারা। জমির মালিক ফারুক ঋণ চেয়েও পাননি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের তিনি জানান, ২০০৭ সালে ঋণের জন্য আবেদন করলে রাজউক ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা বলে ভবনটি অবৈধ। যে কারণে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না।
তবে তাসভির উল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ‘ভবনটি বৈধ বলে ছাড়পত্র দেওয়াতেই ঋণ পেয়েছেন। আর রূপায়নের কাছ থেকে তিনটি ফ্লোর কেনার সময় তিনি এ ঋণ আবেদন করেন এবং প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ঋণ পান।’
তিনি আরও জানান, ‘ভবনটি ১৮ তলা নির্মাণের পর ২৩ তলা পর্যন্ত বর্ধিত করার অনুমোদন রাজউক থেকে নেওয়া হয়েছে। সকল কাগজ যাচাই-বাছাই করেই ২১, ২২ ও ২৩ তলার ফ্লোর কিনেছেন তিনি।’
অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী এফ আর টাওয়ারের ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে কিনা, কার গাফিলতিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়নি? এসব প্রশ্নের উত্তর রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২৩ তলা বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যা ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জন মারা গেছেন। এ ঘটনায় ৩০ মার্চ রাতে বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিল্টন দত্ত বাদী হয়ে ৪৩৬/৩০৪(ক)/৪২৭/১০৯ ধারায় মামলা (নম্বর ৩৭) করেন। এতে এস এম এইচ আই ফারুক হোসেন, রুপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ও তাসভির উল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। ওই দিন রাতেই জমির মালিক ফারুক হোসেন এবং ভবনের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভির উল ইসলামকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরদিন (৩১ মার্চ) এ মামলায় তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন: এফআর টাওয়ারে আগুন: ২৫ লাশ উদ্ধার, ২৪টি হস্তান্তর