ভিসি বলেন, ‘ডাকসুর ভিপি নুরসহ তার সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাদেরকে বলেছি, এখন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ আছে। যেকোনও দাবি দাওয়া আদায়ে একটি দায়িত্বশীল জায়গা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের আমি বুঝিয়েছি, এখন যেকোনও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আমাদের এখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ডাকসু হওয়াতে অনেকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে জানেন না। হল সংসদের নেতারাও বুঝেন না, তাদের কি করণীয়, কীভাবে করতে হবে। তািই ভাবছি যে একটি ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করবো। যারা ডাকসুর সাবেক তাদের নিয়ে এসে একটু প্রোগ্রাম করবো। আর যেকোনও অন্যায়-অপরাধ ক্যাম্পাসে ঘটলে আমাদের একটি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে তারপর সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হয়। এসএম হলের ঘটনার ক্ষেত্রেও তাই হবে।’
ভিসি আখতারুজ্জামন বলেন, ‘গতকালকের ঘটনায় হলের প্রভোস্ট তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি তাদের বলেছি কোনও অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটিয়ে কেউ যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ ঘটাতে না পারে সেজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি। কেউ অন্যায় করে যাতে পার না পায় সে বিষয়টাও আমরা নিশ্চিত করবো। সবাই যেন নিজেদের দায়িত্বশীল জায়গাগুলো ভুলে না যায়।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম, সহকারী প্রক্টর সীমা ইসলাম প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) বিকালে ঢাবির উর্দু বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফরিদ হাসানকে মারধরের ঘটনার অভিযোগপত্র দিতে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে যান ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর, সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন, শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি, ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, অরণি সেমন্তি খানসহ কয়েকজন। সে সময় নুরসহ ছাত্রনেতারা হলটির ভেতরে গেলে সেখানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয় ও অবরুদ্ধ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর হলটির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের অন্য নেতাদের আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার ও তাদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন সেমন্তি, ইমি ও বেনজির। তাদের গায়ে ডিমও ছুড়ে মারা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
আরও পড়ুন:
সোমবারের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নুরের