রিটকারী আইনজীবীর আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (৩ এপ্রিল) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির দিন নির্ধারণ করে এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
শুনানিকালে রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতকে বলেন, ‘রাজীব মারা যাওয়ার পর একবছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও তার পরিবার কোনও ক্ষতিপূরণ পায়নি। রাজীবের দুই ভাই এতিমখানায় অসহায় জীবন-যাপন করছে। এ অবস্থায় ক্ষতিপূরণের রুলটা শুনানি হওয়া দরকার। এ রুলের শুনানির মাধ্যমে যে আদেশটা আসবে— তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
এরপর আদালত এ মামলায় রাজিবের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা আগের দেওয়া রুলের ওপর শুনানির জন্য আগামী ১০ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারান কলেজছাত্র রাজীব। দুই বাসের চাপায় তার ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ৪ এপ্রিল রাজীবের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীবের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। ১৩ দিন চিকিৎসার পর ১৬ এপ্রিল মধ্যরাতে ঢামেকে মারা যান রাজীব।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রাজীব তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মাকে এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান। ঢাকার মতিঝিলে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন স্নাতক শ্রেণিতে। কখনও টিউশনি করে, কখনও পার্টটাইম চাকরি করে নিজে পড়াশোনা করতেন।