কন্ডাক্টরকে পালাতে বলে নিজেও পালিয়েছিলেন ‘সুপ্রভাতের’ মালিক গোপাল

ননী গোপাল সরকার

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার চৌধুরীকে প্রগতি সরণিতে চাপা দিয়ে হত্যার আগে আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি। গুলশানের শাহজাদপুর বাঁশতলা এলাকায় সিনথিয়া নামের এক কলেজছাত্রীকে ধাক্কা দেওয়ার পর চালক সিরাজুলকে আটক করে ট্রাফিক পুলিশের হাতে তুলে দেয় যাত্রীরা। এরপর কন্ডাক্টর ইয়াসিন আরাফাতকে বাসটি নিয়ে সরে পড়ার পরামর্শ দেন মালিক ননী গোপাল সরকার। এই পরামর্শ দেওয়ার পর পালিয়ে যান তিনি নিজেও। 

শুক্রবার (৫ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার চৌধুরীকে চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় সুপ্রভাত পরিবহনের ঘাতক বাসটির (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) মালিক ননী গোপাল সরকারকে (৪২) আদালতে পাঠানো হচ্ছে। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) বিকালে তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে নেওয়া হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গোপালকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান আরও জানান, সুপ্রভাত পরিবহনের ওই বাসটি আড়াই বছর আগে কিনেছেন ননী গোপাল সরকার। তবে এখনও মালিকানা পরিবর্তন করেননি তিনি। বাসটির রুট পারমিট ছিল ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তবে সুপ্রভাত কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশে এই ব্যানারে সদরঘাট থেকে গাজীপুরা রোডে চলাচল করত বাসটি। আবরারকে চাপা দেওয়ার আগে আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটায় সেদিন বাসটি। প্রথম দুর্ঘটনার পর ভিকটিমের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা তাদের (বাস কর্তৃপক্ষের) দায়িত্ব ছিল। কিন্তু বাসের মালিক ননী গোপাল কন্ডাক্টরের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই জানার পরও তাকে বাসটি নিয়ে পালিয়ে যেতে বলেন। এরপর বাসটি নিয়ে সরে পড়ার সময় আবরারকে চাপা দেয় কন্ডাক্টর ইয়াসিন আরাফাত।  

ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. জুনায়েদ আলম সরকার জানান, ‘ঘটনার পর থেকেই ননী গোপাল পলাতক ছিলেন। গুলশান থানায় দায়ের করা মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর হওয়ার পর আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা শুরু করি। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জানতে পারি, তিনি মুগদায় অবস্থায় করছেন। তখন তাকে সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয়।’

প্রসঙ্গত, ১৯ মার্চ ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা থেকে সুপ্রভাত বাসটি ছেড়ে আসে। তখন চালক ছিলেন সিরাজুল ইসলাম। বাসটি গুলশানের শাহজাদপুর বাঁশতলা এলাকা অতিক্রম করার সময় মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তখন পরিবহনের যাত্রীরা চালক সিরাজুলকে ট্রাফিক পুলিশে সোপর্দ করেন। ঘটনাস্থলের কিছু দূরে বাসটি রাখা হয়। এ সময় কন্ডাক্টর ইয়াসিন আরাফাত বাসের মালিকের কাছে ফোন দিয়ে জানায়, বাসটি এখানে থাকলে জনগণ পোড়াতে বা ভাঙচুর করতে পারে। তখন মালিক আরাফাতকে দ্রুত বাসটি সেখান থেকে নিয়ে সরে পড়তে বলেন। এরপর চালকের আসনে বসে কন্ডাক্টর বাসটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় প্রগতি সরণিতে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র আবরার বাসটির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান। এই ঘটনার প্রতিবাদে ঘাতক বাস সুপ্রভাত পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল, ঘাতক চালকের ফাঁসির দাবিসহ আট দফা দাবিতে বেশ কয়েকটি সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।