পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাদ্দাম

মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাদ্দাম হোসেনমিরপুরের রূপনগর এলাকায় নিজ বাসা থেকে নৌপরিবহন অধিদফতরে গিয়েছিলেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাদ্দাম হোসেন (২৮)। কাজ শেষে বাসে চড়ে বাসায় ফিরছেন বলে মাকে ফোনে জানালেও এখনও বাসায় ফেরা হয়নি তার। গত ২ এপ্রিল বিকেল থেকে তার কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সাদ্দামের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে।

ছেলের খোঁজ না পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রূপনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সাদ্দামের মা জাহানারা বেগম। তিনি জিডিতে বলেছেন, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বাসা থেকে মতিঝিলের নৌপরিবহন অধিদফতরের উদ্দেশে রওনা হয় সাদ্দাম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি।

জিডির ভিত্তিতে সাদ্দামের সন্ধানে নেমেছে রূপনগর থানা পুলিশ ও র‌্যাব। তারা বলছে, সাদ্দামের সর্বশেষ অবস্থান দেখে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এখনও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ডিএমপি পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শেখ মো. শামীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা সাদ্দামের সন্ধানে কাজ করছি। গত ২ তারিখ বিকেলে তার সর্বশেষ লোকেশন ছিল মহাখালীর রসুলবাগে। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ। আমরা তার সন্ধানে সব ধরনের চেষ্টা করছি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দাম থার্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কন্ট্রাক্টে কাজ করতেন। গত মাসেও ইউনাইটেড গ্রুপের একটি শিপ আনতে জাপান গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরেছেন ২৫ এপ্রিল। নতুন একটি কাজে আগামী ১১-১২ তারিখ বাইরে যাওয়ার কথা ছিল তার।

নিখোঁজ সাদ্দামের বড় ভাই এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত ২ এপ্রিল কিছু কাগজ নবায়ন করার জন্য নৌপরিবহন অধিদফতরের ৮ম তলায় গিয়েছিল সে। সেখান থেকে বের হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে পৌনে ৪টার দিকে মায়ের সঙ্গে কথা হয়। তখন বলছিল রাস্তায় খুব জ্যাম। বাসে আছি, আসতে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। ওর (সাদ্দাম) এক বন্ধুর সঙ্গে মতিঝিলে কথা হয়েছিল। সে জানিয়েছে, যে কাজের জন্য নৌপরিবহন অধিদফতরে গিয়েছিল, সেটা হয়নি। পরদিন আবার যাবে। এটাই জানিয়েছিল।

সর্বশেষ পল্লবীর এক পরিচিতজনের সঙ্গে কথা বলার সময় মহাখালীতে থাকার কথা জানিয়েছিল সে। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ বলে জানান সাদ্দামের বড় ভাই। তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকার এক আংকেল সাদ্দামকে সোয়া পাঁচটার দিকে ফোন দিয়েছিল। তখন সে বললো আমি বাংলামোটরে। আংকেল তখন বাংলামোটরেই ছিলেন। আংকেল সাদ্দামকে বলেন, তাহলে আসো, আমরা একসঙ্গে যাবো। আংকেলের সঙ্গে গাড়ি ছিল। এটা বলার ৫-৬ মিনিট পর আংকেলকে সাদ্দাম ফোন দিয়ে বলে, আমি মহাখালী। যেতে পারবো না। এরপর থেকে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ।’

এলাকায় বা বাইরে কারও সঙ্গে সাদ্দামের কোনও শত্রুতা ছিল না। তার ভাইয়ের ভাষ্য, ‘এলাকায় যাদের সঙ্গে মিশতো, সবাই পছন্দ করতো। ও কিছুদিন জাহাজে থাকতো, ফিরে এসে এলাকায় থাকতো। সবার সঙ্গে ওভাবে মিশতো না।’

নিখোঁজের বিষয়ে র‌্যাব-৪-কেও জানানো হয়েছে বলে জানান সাদ্দামের বড় ভাই। র‌্যাব-৪ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা খোঁজ নিচ্ছি। এখনও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।