‘তিন মাস ভালো থাকলে, চার মাস অসুস্থ থাকি’

জুয়েল রানা‘আমি তিন মাস ভালো থাকলে, চার মাস অসুস্থ থাকি।’ ঢাকার সিএমএম আদালতে খাস কামরায় গ্রেফতার হওয়া ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা নিজেই নিজেকে মানসিক অসুস্থ বলে দাবি করেন।

সোমবার (৮ এপ্রিল) ঢাকার সিএমএম আদালতের খাস কামরায় নিজেকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে এক আসামির জামিন বিষয়ে তদবির করতে আসেন তিনি। তখন ভুল ইংরেজি শব্দ বলায় সন্দেহ হলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক রাজেশ চৌধুরী  তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শুনানি চলাকালে আদালত বলেন, ‘এত বড় বাটপার আজ নিজের চোখে দেখলাম। ভুয়া প্রবেশপত্র নিয়ে সিএমএম, সিজিএম, জেলা জজ আদালতে মামলার তদবির করতে এসেছে। এর মতো এত বড় বাটপার আর হয় না। তিনি ঢাকার একজন অতিরিক্ত সিএমএম আদালতের বিচারকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।’

ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি করে নিজেকে নিজেকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কখনও আইন মন্ত্রণালায়ের সচিবের আপনজন, কখনও হাইকোর্টের বিচারপতিদের আপনজন পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতারণা করে আসছেন জুয়েল রানা নামের এ ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট।

এদিকে আসামির পক্ষে নুরুন্নাহার নামে এক আইনজীবী শুনানি করেন। তিনি বলেন, ‘আসামির মানসিকভাবে অসুস্থ। এই বিষয়ে আদালতে হাসপাতালের কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে। ’

শুনানির মধ্যে আসামি জুয়েল বিচারককে লক্ষ্য করে বলেন, ‘স্যার আমি মানসিকভাবে অসুস্থ।’ জবাবে বিচারক বলেন, ‘এই প্রথম কোনও মানসিক রোগী নিজেকে মানসিকরোগী/ পাগল হিসাবে দাবি করছে। আসলে সে বড় ধরনের পাগল।’

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘আসামি জুয়েল রানা দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতারণার মাধ্যমে নিজেকে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় দিয়ে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে প্রতারণার উদ্দেশ্যে মামলার তদবির করে থাকে। প্রাথমিক তদন্তে আসামির মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, আসামির ঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, মূল অপরাধী চক্র শনাক্তসহ গ্রেফতার করার জন্য আসামির রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করা হয়।

শুনানির পূর্বে আদালতের কাটগড়ায় দাড়িয়ে জুয়েল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার মানসিক সমস্যা আছে। তিন মাস ভালো থাকলে, চার মাস খারাপ থাকি। আমি ১২তম জুডিশিয়ারি সার্ভিসের  ভাইভা পরীক্ষা দিতে পারেনি অসুস্থতার জন্য। আমার রোল নম্বর ৫৭৭১। আমিতো হাইকোর্টেও প্র্যাকটিস করি।’