থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা ও রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

IMG-20190421-WA0000রোটারি ক্লাব অব মতিঝিলের উদ্যোগে এবং ইউনিভার্সেল হসপিটাল লি. ঢাকা এর সৌজন্যে থ্যালাসেমিয়া সচেতনা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় থ্যালাসিমিয়ার বাহক,রোগী, এটা কীভাবে ছড়ায়, রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা, বাঁচার উপায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার।
মানব কোষের দুটি জিন এর মধ্যে একটি জিনে ত্রুটি থাকলে তিনি থ্যালাসেমিয়ার বাহক আর যদি দুটি জিনেই ত্রুটি থাকে তাহলে তিনি থ্যালাসেমিয়া রোগী। একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক যদি অপর একজন বাহককে বিয়ে করেন তাহলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২ শতাংশ। তাই বিয়ের আগে সবার রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া দরকার।
শিশু জন্মের ১-২ বছরের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া রোগ ধরা পড়ে। এ রোগের লক্ষণ গুলো হলো- ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, ঘনঘন ইনফেকশন, শিশুর ওজন বৃদ্ধি না হওয়া, জন্ডিস, খিটখিটে মেজাজ ইত্যাদি । এ রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। রক্তশূন্যতা পূরণের জন্য রোগীর প্রতিমাসে ১-২ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়।
বাংলাদেশে প্রতি ১৪ জনে ১ জন থ্যালাসেমিয়ার বাহক। বাংলাদেশে ১ কোটি ১০ লাখ লোক থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৭ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্ম নেয়। এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার।
উক্ত অনুষ্ঠানে রোটারি জেলা ৩২৮১ এর গর্ভনর আবুল ফজল মোহাম্মদ আলমগীর, সাবেক জেলা গভর্নর সেলিম রেজা, প্রফেসর ড. মাজহারুল হক খান, ডাইরেক্টর ইউনিভার্সেল হসপিটাল লি, রোটারিয়ান মসিহ মালিক চৌধুরী, ইউনিভার্সেল হসপিটাল লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচাল এয়ার কমোডর (অব.) ইসফাক ইলাহিসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন।
উক্ত সেমিনারে বিভিন্ন ক্লাবের রোটারিয়ানবৃন্দ, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সভাটি উপস্থাপন করেন রোটারিয়ান সৈয়দ ফরহাদ আব্বাস হোসেন। সভাশেষে দিনব্যাপী স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি চলে।