রোজায় অসুস্থদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ

রমজান

আজ প্রথম রোজা। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে সব ধর্মপ্রাণ প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য রোজা রাখা নিয়ম। তবে রোজা সবার জন্য ফরজ হলেও চিকিৎসকরা বলছেন— যারা সুস্থ তারা সবাই রোজা রাখতে পারেন, কিন্তু অসুস্থ ব্যক্তিরা রোজা রাখতে চাইলে তাদেরকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

রোজা রাখা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ)কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রোজা রাখা শরীরের জন্য অবশ্যই ভালো। এখন যেহেতু প্রচুর রোদ, এ কারণে ইফতার, ইফতারের পর ও সেহরিতে প্রচুর পানি খেতে হবে। এসময় গুরুপাকের (তৈলাক্ত ও চর্বি জাতীয়) খাবার খাওয়া যাবে না।’  

কাদের জন্য রোজা রাখা ঠিক না প্রশ্নে ডা. হারিসুল হক বলেন, ‘যেসব রোগীর চারবেলা ওষুধ খেতে হয়। কিডনি রোগীর ওষুধ যদি একবার বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে তার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। ধর্মেও এ ব্যাপারে বলা আছে। হার্টের রোগী হাঁটতে গেলে বুকে ব্যথা হয়। এমন রোগীকে আমরা সকালে ও দুপুরে একটা করে ওষুধ দিয়ে থাকি। বিকালটা খালি রাখি। কারণ, তিন বেলা দিলে এই ওষুধ রেজিস্ট্যান্স হয়ে যাবে। অসুস্থ রোগী যদি রোজা রাখতে পারেন রাখবেন। তবে আমাদের কিছু পরামর্শ— যে রোগীর দিনে তিন বেলা খাবার খেতে হয়,তার জন্য রোজা রাখা জরুরি নয়।কারণ,এ ধরনের রোগী যদি একবেলা ওষুধ না খান, তাহলে তার প্রেসার কন্ট্রোল করা যাবে না।এই রোগীর প্রেসার কন্ট্রোল করতে না পারলে, তার কিডনি নষ্ট হবে,এরপর হার্ট খারাপ হবে, হৃৎপিণ্ডে ছন্দহীনতা আসলে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হবে,বা রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এমন রোগীকে আমরা কখনও রোজা রাখতে বলি না।’

তিনি বলেন,‘যাদের কিডনি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ আছে,রোজায় তাদেরকে দুই বেলা অর্থাৎ সকাল ও বিকালে ওষুধ দিয়ে থাকি। তবে রোজা শুরুর আগে যাচাই করার জন্য রোগীকে ৩/৪ দিন  সকাল-বিকাল ওষুধ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করি। সেক্ষেত্রে যদি দেখি যে, রোগী ভালো আছেন,তখন তাকে রোজা রাখতে বলি।এছাড়া,যদি রোগীর মাথা ব্যথা,শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট হয় সেক্ষেত্রে রোজা বন্ধ করে হলেও ওষুধকেই প্রাধান্য দেবো।’

ডা.হারিসুল হক বলেন,‘যেসব রোগীর ডায়াবেটিস হাইপো হয়ে যায়, যাদের প্রস্রাবে ইনফেকশন হয়,তাদেরকে রোজা রাখতে নিষেধ করি। যেসব অন্তঃসত্ত্বা নারীর একলামসিয়া হয় তাদেরও রোজা বন্ধ রাখতে বলি।’

বাংলাদেশ হেলথ রাইটস মুভমেন্টের প্রেসিডেন্ট ডা. রশীদ-ই-মাহবুব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রোজা একটি ধর্মীয় অনুশাসন। লাইফস্টাইলে এটার একটা ভূমিকা আছে। কিন্তু যারা অসুস্থ, যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত, রোজা রাখলে তাদের  সমস্যা হয়। এছাড়া, যারা অন্যান্য রোগে অসুস্থ, তাদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখা।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. রাজীব দে সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘রমজান মাসে সব ধরনের সার্জারির রোগীই আসেন। তবে রুটিন সার্জারি থেকে জরুরি সার্জারি যেমন— অ্যাপেনডিসাইটিস, ব্রেস্ট অ্যাবসেস, পারফোরেশনের রোগীরা বেশি আসেন। আর যেহেতু অপারেশনের সঙ্গে আংশিক বা সম্পূর্ণ অজ্ঞান করার সম্পর্ক থাকে,সেই সঙ্গে জরুরি ওষুধপত্র ও স্যালাইন ইনজেকশনের মাধ্যমে রোগীর শরীরে দিতে হয়, তাই  হাসপাতালে অবস্থানকালে তাদের পক্ষে রোজা রাখা সম্ভব হয় না। তবে আমরা আউটডোরে যখন রোগী দেখি, তখন ওষুধের ডোজ এমনভাবে অ্যাডজাস্ট করে দিই, যাতে করে রোজা রাখায় কোনও সমস্যা না হয়। সেহরি ও ইফতারিতে ওষুধ সেবনের সময় নির্ধারণ করে দিই।’