ছিনতাইয়ের ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রীর অভিযোগে ভুল শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পর পুনরায় তদন্ত করে দোষী শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। ছিনতাইয়ের অভিযোগে বহিষ্কৃত ওই শিক্ষার্থীর নাম মিরাজুল ইসলাম মারুফ ওরফে এমআই মারুফ। তিনি ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী।
এর আগে ২৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্ত মিরাজুল ইসলাম মারুফের পরিবর্তে একই বিভাগের ১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ আহমদকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এ ঘটনায় বাংলা ট্রিবিউনে ‘তদন্তে গাফিলতি, নিরপরাধ জবি শিক্ষার্থী বহিষ্কার’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত দোষী শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করলো।
বৃহস্পতিবার (৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য, যোগাযোগ ও প্রকাশনা দফতর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মিরাজুল ইসলাম মারুফের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর দফতর সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রী তার বন্ধুদের সঙ্গে বাহাদুর শাহ (ভিক্টোরিয়া) পার্কে ঘুরতে গেলে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম মারুফ (আইডি # ই১৬০৬০২০১৬) ওরফে এমআই মারুফ অশোভন আচরণ করেন এবং মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেন।
প্রাথমিক তদন্তে উক্ত ঘটনার সঙ্গে মিরাজুল ইসলামের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুলভ নয় এবং শৃঙ্খলা পরিপন্থী। এ প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উক্ত মিরাজুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে এবং আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে স্থায়ীভাবে কেন তাকে বহিষ্কার করা হবে না সে বিষয়ে লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে।
গত ২৪ এপ্রিল পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ খান রাতুল (আইডি # ই১৬০৩০৪০৭২) এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মারুফ আহমদকে (আইডি # ই১৭০৬০২০৪১) বহিষ্কার করা হয়েছিল। এবার রাতুলের বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকলেও মারুফ আহমদকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে মিরাজুল ইসলাম মারুফকে বহিষ্কার করা হলো।
বহিষ্কারের বিষয়ে প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, আগে একটা মিসটেক হয়েছিল। তবে এখন সঠিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর সিদ্ধান্তটি আগেই নেওয়া হয়েছিল।
তবে এ বিষয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মল্লিক আকরাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অভিযুক্ত মিরাজুল ইসলাম মারুফের মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।