কেরোসিন দিয়েই নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হয়: সিআইডি

নুসরাত

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন দিয়েই আগুন দেওয়া হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় সংস্থাটির রাসায়নিক পরীক্ষক ডা. দীলিপ কুমার সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘নুসরাতের পোশাক এবং ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা পলিথিনে কেরোসিনের অস্তিত্ব পেয়েছি আমরা। মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই’কে গতকাল (১৩ মে) আমাদের প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছি।’

ডা. দীলিপ কুমার সাহা আরও বলেন, ‘আমরা আলামত হিসেবে নুসরাতের সালোয়ার, বোরকা ও পলিথিনসহ চারটি নমুনা পেয়েছিলাম। সেগুলো পরীক্ষার পর আমরা তাতে দাহ্যপদার্থের পেয়েছি এবং সেই দাহ্যপদার্থ হলো কেরোসিন।’

উল্লেখ্য, আলিম পরীক্ষা দিতে ৬ এপ্রিল সকালে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। সেখানে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে তার গায়ে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত। ওই ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত করছে পিবিআই।

আগুন দেওয়ার আগে তার গায়ে কোন দাহ্যপদার্থ ঢালা হয়েছিল তা নিয়ে কথা চালু থাকলেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে জব্দকৃত আলামতগুলো পরীক্ষার জন্য ২ মে সিআইডির রাসায়নিক পরীক্ষাগার চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। পরীক্ষার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন ড. দিলীপ কুমার সাহা। কমিটির সদস্যরা কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি ও চট্টগ্রামের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে আলামত সম্পর্কে প্রতিবেদন দিয়েছে।