এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপির পাঁচ এমপির শপথ নেওয়ার পেছনে সরকারের যতটা না চাপ ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল তাদের লোভ। এরা একটা দিনের জন্য বলেছেন যে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্ত না হলে সংসদে যাবো না? এই পাঁচজনের কেউ বলেছেন? বলেন নাই। তাহলে তাদের সংসদে যাওয়াটা জরুরি। বেগম জিয়ার মুক্তিটা কিন্তু জরুরি না।’
গয়েশ্বরের এমন মন্তব্য নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, বিএনপির পাঁচ এমপির সংসদে যোগদান নিয়ে অনেক কথা আছে। দলের নেতৃবৃন্দই বিষয়টিকে ঘোরপ্যাঁচের মধ্যে নিয়ে গেছেন। প্রথমে বহিষ্কার করা হলো। পরে আবার যোগ দেওয়া হলো। এসব নিয়ে আমরা নিজেরা যতই রাখঢাক রেখে কথা বলতে চাই; কিন্তু জনগণ তো তার মুখ বন্ধ রাখে না। জনগণ তো কথা বলেই। তাদের আলাদা একটা কনসেপশন আছে। জনগণকে পক্ষে না রেখে, তাদের আস্থায় না থাকাটাই আমাদের (বিএনপির) ব্যর্থতা। এসব বিষয় নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথাবার্তা আছে।
তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, একটা বিষয় পরিষ্কার করতে চাই যে, অনেকে মনে করেন বা বাজার প্রচার ছিল যে, বিএনপি হাইকমান্ড সরকারের সঙ্গে কোনও আঁতাত করেছে। আঁতাতটা কী? সংসদে যোগ দিলে চেয়ারপারসনকে জেলখানা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। কিন্তু এটা প্রমাণ হয়েছে যে, বিএনপি কোনও আঁতাত করেনি। চেয়ারপারসন এখনও জেল খাটছেন। তার মুক্তি এখনও অনিশ্চিত।
তিনি বলেন, আমার রাজনীতি হচ্ছে জনগণের জন্য। আমি যেহেতু দল করি, দলের নিয়ম মেনেই আমাকে কথা বলতে হবে। তবে আমরা বা বিএনপি হাইকমান্ড যত কৌশলই করুক সেখানে জনগণ বিষয়টি কোন আঙ্গিকে গ্রহণ করবে সেদিকে খেয়াল রেখে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে বলে আমি মনে করি না। আমি মনে করি, এটা সরকার রাজনৈতিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছে, যেন আইন তার নিজস্ব গতিতে না চলে, খালেদা জিয়া যেন মুক্তি না পান।
গয়েশ্বর সম্পর্কে তিনি বলেন, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ দলের সঙ্গে আছেন এবং একজন নিবেদিত নেতা হিসেবেই আছেন। ওয়ান ইলেভেনে অনেকে দলের সঙ্গে বেঈমানি করলেও তিনি তা করেননি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির এমপিদের সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, এই পাঁচটা লোককে যদি আমরা বাধ্য করতে পারতাম তাহলে আজকে আমাদের এই দুঃখ থাকতো না। মানুষের কাছে এই প্রশ্নের আমাদের জবাব দিতে হতো না।