ঘটনা প্রসঙ্গে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ফ্লাইটে যাওয়ার সময় যে ব্যাগ সঙ্গে নিই, সেখানেই আমার পাসপোর্ট থাকে। গত ৩ জুন ব্যাংকের কাজে সেখানে পাসপোর্ট নিয়ে যাই। পরবর্তীতে ভুলে আর পাসপোর্টটি আমার ফ্লাইটের ব্যাগে নেওয়া হয়নি। এ কারণেই এই ভুল হয়েছে।’
গণমাধ্যমে ভুলভাবে খবর প্রকাশ হয়েছে দাবি করে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ বলেন, ‘কাতারের দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে আমাকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। আমি তো ইমিগ্রেশনেই যাইনি। ফলে এ ধরনের ঘটনা ঘটার কারণ নেই। আমি তাদের মুখোমুখিও হইনি। ফ্লাইট নিয়ে গেলে কাতার শহরের ক্রাউন প্লাজা হোটেলে ওঠেন বিমানের পাইলটরা। কিন্তু আমার সঙ্গে পাসপোর্ট না থাকায় আমি আর সেখানে যাইনি। অন্য পাইলট ও ক্রুরা ইমিগ্রেশন হয়ে ক্রাউন প্লাজা হোটেলে চলে যান। আমি দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকার হোটেল অরিস এয়ারপোর্টে উঠি। বাংলাদেশ থেকে আমার পাসপোর্ট আসার পর আমি ক্রাউন প্লাজা হোটেলে চলে এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে হোটেলে আসার সময় ইমিগ্রেশনে আমাকে কোনও ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি। অথচ খবরে দেখলাম, আমাকে আটক করা হয়েছে।’
বাংলাদেশ থেকে কাতারে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট দেখানো প্রসঙ্গে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ বলেন, ‘ঈদের দিন বিকালে আমরা রওনা হই। ঈদের দিন হওয়ায় সবাই ফেস্টিভেল মুডেই ছিলেন। শাহজালালে ইমিগ্রেশনে আমার পাসপোর্ট দেখতে চাইলে এ ভুলটি আর হতো না। আমি তখনই পাসপোর্ট এনে ফ্লাইটে যেতাম। আসলে আমি যেমন ভুল করেছি, ঢাকার ইমিগ্রেশনও ভুল করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার ইমিগ্রেশনে আমাদের জেনারেল ডিক্লেয়ারেশনের (জিডি) কপি দেওয়ার পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়। দেখানো ছাড়া পাসপোর্ট আর কোনও কাজে লাগে না। কারণ, জিডি কপি আর ফিঙ্গারপ্রিন্টেই সব তথ্য পেয়ে যায় ইমিগ্রেশন। তবে অনেক দেশে পাসপোর্ট স্ক্যান করে রাখে।’
আরও পড়ুন:
পাইলটদের কি পাসপোর্ট-ভিসা লাগে?
পাসপোর্ট ছাড়া কীভাবে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পার হলেন সেই পাইলট?
কাতারে আটকে গেলেন প্রধানমন্ত্রীকে আনতে যাওয়া বিমানের পাইলট