ছয় দফা দাবি হলো—নবম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি চাকরিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়োগ দিতে হবে। গত ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের দশম গ্রেডভুক্ত ৩৮ নম্বর রিসোর্স শিক্ষক পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে, ওই পদে ব্রেইল পদ্ধতিতে পাঠ দানের জন্য শুধু উপযুক্ত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়োগ দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রুতিলেখক নীতিমালা-২৫-এর বি উপধারা অনুযায়ী সরকারিসহ স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি চাকরির পরীক্ষায় ওই আইন মেনে চলার নিশ্চয়তা দিতে হবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর চাকরিতে যোগদান করার আগ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা করে মাসিক বেকার ভাতা প্রদান করতে হবে। বিশেষ ব্যবস্থায় চাকরির সুযোগ প্রদানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের প্রতিবছর একবার বিশেষ ব্যবস্থায় সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধাস্বায়ত্তশাসিত চাকরিতে নিয়োগ দিতে হবে। তীব্র মাত্রারূপে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সর্বস্তরে কাজের সুযোগ দিতে হবে।
গ্র্যাজুয়েট পরিষদের আহ্বায়ক আলী হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা গত রবিবার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দাবি আদায়ের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছি। কিন্তু আমাদের সঙ্গে সরকারের কেউ দেখা করেনি। কেউ কোনও আশ্বাস দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছি।’ তিনি বলেন, ‘দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবো।’
অনশনে অংশ নেওয়া শতাধিক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর মধ্যে অন্তত ছয় জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের আমরণ অনশন শুরু হওয়ার পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পুলিশ বাড়ানো হয়েছে। তবে অনশনে পুলিশকে কোনও বাধা দিতে দেখা যায়নি।