সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশনায় দুদকের তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে জাহালমের ঘটনার ক্ষেত্রে দুদকের অনুসন্ধানকালীন ত্রুটি-বিচ্যুতি ও দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অভ্যন্তরণীণ ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় চিহ্নিত করে দুদকের এ প্রতিবেদন একদিকে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন, অন্যদিকে উদ্বেগজনক। এতে দুদকের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের হাতে জাহালমের সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুঃখজনক অন্যায়ের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি এ প্রতিবেদন দুদকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার কার্যকর চর্চা নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক ঘাটতি নির্দেশ করে।’
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুপারিশগুলো প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, ‘এ প্রতিবেদন দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িতপ্রাপ্ত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের ওপর দেশের মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে, প্রতিবেদনে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়হীনতার যে কারণ উদঘাটিত হয়েছে তা দুদকের দীর্ঘকালের পুঞ্জীভূত সমস্যা। পাশাপাশি প্রতিবেদনটি দুদককে এ ধরনের গাফিলতি ও অন্যায় রোধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজনে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ করবে বলে টিআইবি প্রত্যাশা করে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, যদিও জাহালমকে যে অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তার প্রকৃত ক্ষতিপূরণ কখনই সম্ভব নয়। তারপরও দুদকের এ প্রতিবেদনে নিরপরাধ জাহালমের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে একটি আশাব্যঞ্জক সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দুদক নিজ দায়িত্বে এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যতে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিবেদনে জাহালমের ঘটনায় ব্যাংকসগুলোর দায়িত্বে গাফিলতি, ভিন্ন খাতে প্রবাহ ও পাবলিক প্রসিকিউটরসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়হীনতাকে দুঃখজনক অভিহিত করে ড. জামান বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়ায় যেকোনও একটি পক্ষ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে হয়তো জাহালমকে এ পরিণতি ভোগ করতে হতো না।