রাজউকের সহকারী পরিচালক সদরুল আলম কারাগারে





শাহ মোহাম্মদ সদরুল আলমবনানীর এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সহকারী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ সদরুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকালে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সদরুল আলমকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী এম খাইরুজ্জামান জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।
গতকাল সোমবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে দুদক।
নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ১৯ থেকে ২৩ তলা এফআর টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগে মালিক, রাজউকের সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে গত ২৬ জুন পৃথক দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন এফআর টাওয়ারের মালিক এস এম এইচ আই ফারুক, কাসেম ড্রাইসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাসভীর-উল-ইসলাম, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান কে এ এম হারুন, সাবেক সদস্য মো. রেজাউল করিম তরফদার, ভবননির্মাতা প্রতিষ্ঠান রূপায়ন গ্রুপের কর্ণধার লিয়াকত আলী খান মুকুল, রাজউকের সাবেক পরিচালক মো. শামসুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক মো. মোফাজ্জল হোসেন, সহকারী পরিচালক শাহ মো. সদরুল আলম, সাবেক প্রধান ইমারত পরিদর্শক মো. মাহবুব হোসেন সরকার, সাবেক ইমারত পরিদর্শক মো. আওরঙ্গজেব সিদ্দিকী, সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক জাহানারা বেগম, সহকারী পরিচালক মেহেদউজ্জামান, নিম্নমান সহকারী মুহাম্মদ মজিবুর রহমান মোল্লা, অফিস সহকারী মো. এনামুল হক, বিসিএসআইআর সদস্য (অর্থ) মুহাম্মদ শওকত আলী, সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আবদুল্লাহ আল বাকি, গণপূর্ত অধিদফতরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ নাজমুল হুদা এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামছুর রহমান।
মামলায় ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারের ১৯ তলা থেকে ২৩ তলা নির্মাণ, বন্ধক প্রদান ও বিক্রির অভিযোগে দণ্ডবিধির ৭টি ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ দুপুরে বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। এতে ২৫ জন মারা যান। আহত হন ৭৩ জন।