শনিবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলের ঢাকা ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখার শিশু কর্নারের চিত্র এটি। শিশুদের সময় কাটানোর জন্য করা এ কর্নারে আছে আঁকিবুঁকির ব্যবস্থাও। সেবাগ্রহীতা অভিভাবকদের সঙ্গে শিশুরা ব্যাংকে এসে যেন মনের আনন্দে সময় কাটাতে পারে, সেজন্য এই ব্যবস্থা। কিন্তু মশা আঁকায় মনোযোগী কেন হলো এই শিশু?
শিশু মনস্তত্ত্ববিদরা বলছেন, সম্প্রতি ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় গণমাধ্যমসহ সবখানে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এই আলোচনা ও প্রচার শিশুর মনোজগতেও একধরনের প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া ডেঙ্গুর কারণে সতর্কতার অংশ হিসেবে শিশুদের নানাভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। এতে তারা অতিষ্ঠও হয়ে পড়ছে। সেক্ষেত্রে মশা আঁকা শিশুর প্রতিবাদের ভাষাও।
শিশু অধিকার আন্দোলনকর্মী গওহার নঈম ওয়ারা মনে করেন, পুরো পরিস্থিতিতে মশা নিয়ে শিশুরা অতিষ্ঠ বেশি। শিশুদের আলাদা করে কিছু শেখানো লাগে না। সে যেটা অনুভব করে, সেটাই প্রকাশ করে। এখনকার পরিস্থিতিতে সে যে অতিষ্ঠ, সেটাই সে প্রকাশ করতে চেয়েছে। তিনি বলেন, শিশুরা অতিষ্ঠ, কারণ তাদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রিত, কেবল মশারির নিচে বসে থাকা বা বাসার বাইরে যেতে না পারার মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে তারা পরিচিত হয়ে উঠছে। সর্বোপরি এটা তার প্রতিবাদের ভাষা।
কোনও ধরনের প্যানিক যেন না সৃষ্টি হয় মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, আমাদের এমনভাবে কোনও প্রচার বা আলোচনা করা উচিত হবে না, যা শিশুমনে আতঙ্ক তৈরি করে। বরং শিশুদের বয়সোপযোগী করে ডেঙ্গুর নানাদিক এবং তা থেকে সুরক্ষিত থাকতে করণীয় সম্পর্কে তাদের সচেতন করতে হবে।
তবে অতিমাত্রায় সতর্কতা শিশুর স্বাভাবিক আচরণ ও ভাবনাজগৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও মত দেন তিনি। কারণ, প্যানিক শিশুমনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। এতে শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ঢাকা ব্যাংকের মতিঝিল ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখার ম্যানেজার ফখরুল আবেদীন বলেন, ব্যাংকে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা অনেক অভিভাবকের সঙ্গে শিশুরাও আসে। কাজের সময় মা-বাবাকে বিরক্ত করে তারা। এতে দেরি হয়। কখনও কখনও তাদের কাজটি ঠিকমতো করতেও পারেন না অভিভাবকরা। সব মিলিয়ে আমাদের মনে হয়েছে, শিশুদের সময় কাটানোর একটা ব্যবস্থা করা জরুরি।
মশা আঁকা ওই শিশুটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাত্র ৩ বছর ৩ মাস বয়সী শিশুকে আঁকতে দেখে আমি পাশে গিয়ে জানতে চাই, সে কী আঁকছে। সে বলে, ‘মশা অনেক মশা।’
মশা মারার ফগার মেশিনের কথা উল্লেখ করে সে বলে, ওই যে ভু করে দেয় না!