টেকসই উন্নয়ন (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ১২টি সুপারিশ উপস্থাপন করেছে। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে ‘তারুণ্যের প্রত্যাশা: চাই গুণগত শিক্ষা’ ব্যানারে আয়োজিত মানবববন্ধনে এটি পেশ করা হয়।
সুপারিশগুলো হলো- শিক্ষায় গুণগতমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও তরুণদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কৌশল নিরূপণ ও সুনির্দিষ্ট সময়াবদ্ধ কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। উল্লিখিত কৌশল ও কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ এবং আধুনিক, সময়োপযোগী, বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতির ক্ষেত্রে যেকোনও ধরনের অসঙ্গিত নিয়ে তরুণসমাজ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের মতামত প্রকাশ ও প্রতিবাদ করার আইনি অধিকারের চর্চা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তরুণরা যাতে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টগুলো, বিশেষ করে অভীষ্ট-১৬ বাস্তবায়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা। শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার কার্যকর প্রসারে জাতীয় ও স্থানীয়, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিকুলাম ও জনবলসহ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতগুলোর মধ্যে গবেষণাকেন্দ্রিক সম্পর্ক স্থাপনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সৃজনশীল ও বৃদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সুযোগ বাড়াতে হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের পাশাপাশি মেন্টরিং, আইনি সহায়তা এবং বাজারে অভিগম্যতা নিশ্চিত করতে হবে। গুণগত শিক্ষা বিকাশে গবেষণা খাতে বাজেট বরাদ্দ এবং ব্যাংক ঋণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাজার সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। যুব উন্নয়ন নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব ক্ষেত্রে চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দুর্নীতিমুক্ত করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করতে হবে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশ বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের তরুণরা চায় গুণগত শিক্ষার উন্নয়ন ঘটুক। বাংলাদেশ সাম্প্রতিকালে বিশেষ করে যখন এমডিজি ছিল, তখন অন্যান্য খাতের মতো শিক্ষাখাতে সংখ্যাভিত্তিক অর্জন অনেক হয়েছে, কিন্তু আমরা পাশাপাশি যেটা দেখছি যে, যারা এ খাতে বিশেষজ্ঞ এবং কাজ করেন, তাদের মধ্যে একটি বদ্ধমূল ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, আমাদের শিক্ষার গুণগতমান ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য যে, আমরা যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার কথা বলছি, যে আধুনিক বিশ্বের কথা বলছি, তার সঙ্গে মিল রেখে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যদি প্রস্তুত করতে হয়, তাহলে শিক্ষার গুণগতমান বাড়ানো ছাড়া আমাদের কোনও বিকল্প নেই। শিক্ষার গুণগতমান বাড়ানো আমাদের তরুণসমাজের দাবি।’