ব্যারিস্টার খোকনের বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আমার দুটো কথা। প্রথমত আপনারা সব কিছুই জানেন। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু হত্যার কোনও এজাহার করা যায়নি। এটা কি আইনের শাসন? তারপর জেল হত্যা মামলার একটি এফআইআর হওয়ার পরও কোনও সুরাহা হয়নি। এটা কি আইনের শাসন? ক্লিনহার্ট অপারেশেন কি আইনের শাসন? কোনটাই আইনের শাসন নয়। আজকে কি আপনারা এমন কিছু দেখছেন? আমি যদি আজকের তথ্যগুলো আর এই তথ্যগুলো তুলে ধরি, তাহলে আপনাদের কাছেই আমি বিচার চাইবো আমি সত্য বলেছি নাকি মিথ্যা বলেছি।’
তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত তারা বলেছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। ওনাদের (বিএনপি) সময় ওনাদের মতো করে বিচার পাওয়ার জন্য একজন বিচারপতি যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারেন সেজন্য সংবিধান পরিবর্তন করেছিলেন। আমরা ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার, জেল হত্যা, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার শেষ করেছি। সব মামলার বিচার শেষ করেছি। সেখানে আমি যদি দাবি করি, বাংলাদেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সেই পদক্ষেপগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার তা নিয়েছে। তাহলে আমি কি মিথ্যা বলেছি?’
এর আগে গত ৪ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন অভিযোগ করেছিলেন, ‘জেনেভায় জাতিসংঘের সভায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে মিথ্যাচার ও গুম-খুনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সঠিত তথ্য না দেওয়ায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের শপথ ভঙ্গ হয়েছে এবং এ কারণে তার স্বপদে থাকার অধিকার নেই।’ ওই বক্তব্যের সত্যতা এবং জেনেভায় আয়োজিত সভার ইতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান গণমাধ্যমকর্মীরা।
জবাবে জেনেভার সম্মেলনের ইতিবাচক দিকগুলোর বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৮ সালে ‘ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন এগেইন্টস্ট টর্চার’ এর স্টেট পার্টি হিসেবে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে। এরপর ২০০১ সাল থেকে ওই কমিটিতে যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল তা গত ২০ বছর দেওয়া হয়নি। আমরা এবার সে রিপোর্টটি দিয়েছি। আমরা গত ৪৪ বছরে মোট সাতটি রিপোর্ট ওই সভায় জমা দিয়েছি। আমরা ইউনাইটেড নেশনসের চাহিদা অনুযায়ী রিপোর্টগুলো দিয়েছি। ওই সভায় দেখেছি ইউনাইটেড নেশনস যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছে সেগুলো ২০১৩ সাল পর্যন্ত। নতুন কোনও তথ্য সংস্থাটির কর্মকর্তারা সভায় উত্থাপন করতে পারেননি। এই সুযোগে বাংলাদেশের এখনকার বাস্তবতা, বর্তমান অবস্থা, আইনের শাসনের ব্যবস্থা তাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। আমরা দেখেছি, তারা আমাদের রিপোর্টে সন্তুষ্ট হয়েছেন। বাংলাদেশে যা যা ঘটছে তা তাদের সামনে তুলে ধরেছি। বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর কী কী হয়েছে সেসবও ওই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। সেইভাবে বললে জেনেভার সভাটিকে আমরা ইতিবাচকভাবেই দেখছি।”
এর আগে শিশু সুরক্ষায় বিচারিক পদ্ধতির সক্ষমতা নিয়ে ২০১৩ সালের শিশু আইনের ওপর একটি কর্মশালার উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী। এ সময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আবু সাহেল শেখ মো. জহিরুল হক, যুগ্ম সচিব গোলাম সারওয়ার ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি টমো হোজুমি।