বিচারপতিসহ সাংবিধানিক পদধারীরা আগের মতো প্রটোকল পাবেন: হাইকোর্ট

 

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিসহ সাংবিধানিক পদধারীদের ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স অনুসারে আগের মতো প্রটোকল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে নিউজ করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের শুনানি নিয়ে বুধবার (৭ আগস্ট) বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একরামুল হক টুটুল। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মামুন মাহবুব ও তাপস বিশ্বাস। শুনানিকালে আদালত বলেন, এরআগে বিচারপতিসহ অন্যদের প্রটোকলের বিষয়ে বিভিন্ন নিউজে যে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে, বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ সে ধরনের কোনও আদেশ দেননি। বিষয়টি ছিল ওই আদালতের মন্তব্য। এরপর আদালত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিসহ সাংবিধানিক পদধারীদের ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স অনুসারে আগের মতো প্রটোকল দিতে এবং হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে নিউজ করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন।

ওই আদেশের কিছু পরেই আদালতের লিখিত আদেশ প্রকাশ পায়। আদেশে বলা হয়, ‘সংবিধান, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) এবং দেশের আইন অনুসারে ভিআইপিদের প্রয়োজনীয় প্রটোকল সুবিধা দিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও মহানগর ও শহরাঞ্চলের সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হলো।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রসঙ্গে আদালত বলেন, ‘রাষ্ট্র ও সমাজের মুখপাত্র হিসেবে আমরা সাংবাদিকদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীলতা প্রত্যশা করি। এ দায়িত্বশীলতা বিশদ, সত্যের প্রতিফলন এবং সম্পূর্ণ হতে হবে।’
আদালতের আদেশে আরও বলা হয়, কোনও রকম ব্যর্থতা ছাড়াই সংশ্লিষ্টদের পদমর্যাদাক্রম অনুসারে সুবিধা (প্রটোকল) অব্যাহত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে অনতিবিলম্বে এই আদেশের অনুলিপি সব জেলা জজদের কাছে পাঠাতে হবে। এছাড়া আদেশের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের কাছেও পাঠাতে হবে।

এর আগে, ৩১ জুলাই ভিআইপি প্রটোকল বিষয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নয়, বাকিরা সবাই রাষ্ট্রের কর্মচারী। মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি এক নম্বর ফেরিঘাটে যুগ্ম সচিবের অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরি না ছাড়ায় স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা রিটের শুনানিকালে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

পরে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়। ওইসব সংবাদ সংযুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহিনুর রহমান হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে আদালত আদেশ দেন এবং মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেন।