সারজানা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা ল্যাবএইড হাসপাতালকে একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও তারা সেটি গ্রহণ করেননি। তারপর আমরা এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার অধিদফতরে অভিযোগ করি।’
প্রসঙ্গত, সারজানার বাবা এ ওয়াই সাহীদুল ইসলাম ৭১ বছর বয়সে গত ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে নিজ বাসায় মারা যান। এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় পরিবারের অনুরোধে লাশ ল্যাবএইডের মর্গে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। অপেক্ষা করা হয় একমাত্র মেয়ের জন্য। কিন্তু হাসপাতালটির মর্গে লাশ পচে যাওয়ায় মেয়ে এসে বাবার মুখটা দেখতে পারেননি।
সারজানা বলেন, ‘এই তিনদিনে তো লাশ এভাবে পচে যাওয়ার কথা নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনও অ্যাকশনে যাইনি। গত ৩১ জুলাই একটা দরখাস্ত করেছি তাদের কাছে। কিন্তু তারা সেটি অ্যাকসেপ্ট করেনি। এরপর আমরা ভোক্তা অধিকার অধিদফতরে একটা আবেদন করেছি। কিন্তু তার কোনও শুনানি এখনও হয়নি।’
বাবার লাশ দেখতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সারজানা বলেন, ‘কথা ছিল তাকে দেখার পর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে জানাজা শেষে আজিমপুরে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু লাশ গলে যাওয়ায় গাড়ি থেকেই বের করা হয়নি। রাস্তার ওপর লাশবাহী গাড়িতে লাশ রেখেই জানাজা পড়তে হয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ল্যাবএইড হাসপাতালের কমিউনিকেশন বিভাগের অ্যাসিসট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার সাইফুর রহমান লেনিন বলেন, ‘এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি। অনেক আগের মারা যাওয়া বডি আমাদের হাসপাতাল রিসিভ করেছিল।’ যিনি রিসিভ করেছেন, তিনি ঠিকমতো চেক করেননি বলেও জানান লেনিন।
তবে, এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন সারজানা ইসলাম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ল্যাব এইডে নেওয়ার পরেই হাসপাতালটির চিকিৎসকরাই আমার বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন। ডেথ সার্টিফিকেটেও সেই বিষয়টি উল্লেখ আছে।’ তাহলে সেই লাশ কীভাবে পুরনো হয় বলেও তিনি প্রশ্ন রাখেন।