এডিসের লার্ভা বেশি টায়ারে, মশা বেশি টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে

স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্যবার্তায় প্রকাশিত তথ্যডেঙ্গুর ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার লার্ভা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে পরিত্যক্ত টায়ারে, আর প্রাপ্তবয়স্ক এডিস মশা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে বাস টার্মিনাল, বাস ডিপো ও রেলওয়ে স্টেশনে। গত ৩১ জুলাই থেকে গত ৪ আগস্ট পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার করা সর্বশেষ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা রাজধানী ঢাকার ১৪টি এলাকায় এই জরিপ করেছে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানায় রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা।

আজ রবিবার ( ১১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতর তাদের ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বলেও জানান ডা. সানিয়া।

ডা. সানিয়া তাহমিনা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত ৩১ জুলাই থেকে গত ৪ আগস্ট পর্যন্ত বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, বস্তি এলাকা, মেট্রোরেল প্রজেক্ট, পুলিশ লাইন, হাসপাতালসহ মোট ১৪টি এলাকায় চারটি কীটতত্ত্ববিদের দল এই জরিপ পরিচালনা করে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু বিষয়ক কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই জরিপটি ছিল আমাদের নিয়মিত কর্মসূচির অতিরিক্ত। জরিপ অনুযায়ী রাজধানী ঢাকার ৯০ শতাংশ স্থানে মশা বেশি, যা কিনা ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণকে বাড়িয়ে দেয়।

ডা. আক্তারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঢাকা শহরের যে ১০০টা স্থানে আমরা জরিপ করি সেগুলো সাধারণত মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিং, ফাঁকা জায়গা, নির্মাণাধীন ভবন। কিন্তু কখনও ক্রাউডেড প্লেসে ( জনবহুল এলাকা) আমরা এ ধরনের জরিপ করিনি।

তিনি বলেন, আমাদের এবারের পরিকল্পনা ছিল জরিপের জন্য এমন জায়গা বেছে নেওয়া, যেখানে একটা এডিস মশা অনেক মানুষকে একসঙ্গে কামড়াতে পারে এবং এই রোগ ছড়াতে পারে। সেটা যাচাই করতেই আমরা বাস টার্মিনাল, মেট্রোরেল এলাকাসহ জনবহুল এলাকায় জরিপ করি। এরমধ্যে বাস ডিপো ও টার্মিনালগুলোতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, যত্রতত্র টায়ার পড়ে রয়েছে, আর সব টার্মিনাল ও মেট্রোরেল কর্ম এলাকায় গিয়ে পাওয়া গেছে পানিভর্তি প্লাস্টিক সামগ্রী। এসব জায়গায় এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। আমাদের পরামর্শ হচ্ছে, সারা বছর ধরেই এসব জায়গা ‘টেককেয়ার’ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা সঙ্গে সঙ্গে এসব বিষয় সিটি করপোরেশনকে জানিয়েছি। সেই সঙ্গে যারা টায়ারের ব্যবসা করেন বা টার্মিনালে দোকানপাট করেন তাদেরও কিন্তু সচেতন থাকতে হবে।

ডা. আক্তারুজ্জামান বলেন, আমরা মূলত জনবহুল জায়গায় এডিস মশার উপস্থিতি কেমন এটা জানার জন্য এই সিচুয়েশন অ্যানালাইসিস করে দেখেছি। কারণ, একটা স্কুলে সব শিশুকে ইনফেকটেড (আক্রান্ত) করার জন্য একটা বা দুইটা এডিস মশাই যথেষ্ট। এজন্য আমরা বলছি, এমন জায়গাগুলোতে আরও বেশি করে টেককেয়ার করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা টাইম টু টাইম দেখবো বিষয়টা, বিশেষ করে যখন বর্ষা মৌসুম শেষ হয়ে যাবে তখনও এই জরিপ কাজ চলবে। কারণ, বিআই ব্রুটো ইনডেক্স-(মশা পরিমাপের সূচক) অনেক জায়গাতে ২০-এর বেশি রয়েছে অর্থাৎ এসব জায়গায় ১০০টির মধ্যে ২০টি পাত্রে লার্ভা বা অ্যাডাল্ট মশা পাওয়া গিয়েছে, কোথাও কোথাও তারচেয়েও বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু বিষয়ক কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান আরও বলেন, উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সব জায়গায় তো আমরা এই জরিপ করিনি। কিন্তু বুঝলাম, কেবল বাড়িঘরে করলে হবে না, এসব জনবহুল মার্কেট প্লেস, বাস টার্মিনাল, মেট্রোরেল, নির্মাণাধীন ভবনসহ এসব জায়গায় দেখতে হবে মশার অবস্থান এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।